বড় কোম্পানির কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ভ্যাট আসছে না

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৭

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বড় কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগের কাছ থেকেই কাঙ্ক্ষিত হারে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আদায় হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বৃহত্ করদাতা ইউনিট বা এলটিইউ-ভ্যাট অফিসে রাজস্ব প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এলটিইউ-ভ্যাট অফিসসূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে এ অফিসের ভ্যাট আদায় বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ শতাংশের মতো। বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের এমন চিত্র পুরো ভ্যাট আদায়ের পরিসংখ্যানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত চার মাসে এলটিইউ-ভ্যাট অফিসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। অথচ আলোচ্য সময়ে আদায় হয়েছে ১৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই অফিসের ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা বা প্রায় ২২ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১২ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে, গত চার মাসে আদায় বেড়েছে মাত্র দেড় শতাংশ। অথচ চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এলটিইউ-ভ্যাট অফিসকে আদায় করতে হবে ৬০ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা। আর মোট ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা।

বছরে পাঁচ কোটি টাকার উপরে ভ্যাট পরিশোধ করে-এমন ১৭৫টি কোম্পানি এলটিইউ-ভ্যাট অফিসের অধীনে নিবন্ধিত। এগুলো বৃহত্ ভ্যাটদাতা হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে তামাকজাত কোম্পানি ছাড়াও গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, মোবাইল ফোন কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা, ওষুধ, তারকা মানের হোটেল, সিমেন্ট, কোমল পানীয়, পাদুকাসহ আরও কয়েকটি খাতের কোম্পানি রয়েছে। এনবিআরের আদায়কৃত ভ্যাটের ৬০ শতাংশের উপরে আসে এসব কোম্পানির কাছ থেকে। আবার আলোচ্য খাতগুলোর মধ্যে মোটাদাগে ভ্যাট আদায় হয় মূলত তামাকজাত কোম্পানি, গ্যাস খাত, মোবাইল ফোন খাত থেকে।

সূত্র জানিয়েছে, সরকার সম্প্রতি গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ছাড় দিয়েছে। এনবিআর হিসাব করে দেখেছে, পুরো বছরে এ খাতের সম্ভাব্য আদায় হতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আদায় কমে যাবে। অন্যদিকে নির্বাচনী বছর হওয়ায় এর বাইরেও কিছু জনসম্পৃক্ত খাতে ভোক্তা পর্যায়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশেষত ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ভ্যাট ছাড় দেওয়ায় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আদায় কমে যাবে প্রায় ৭২০ কোটি টাকা। ইন্টারনেট সেবার উপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে। অবশ্য গ্রাহক পর্যায়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সুবিধা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে আরও কিছু খাত থেকেও রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়বে না।

এলটিইউ-ভ্যাট অফিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, চলতি অর্থবছর মাত্রাতিরিক্ত আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বেশকিছু খাতে সরকারি সিদ্ধান্তে ছাড় দেওয়ায় তা ভ্যাট আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে নানামুখী চেষ্টায় আমরা আদায় বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাসগুলোতে আদায় বাড়বে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এনবিআরের সার্বিক রাজস্ব আদায় বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো। এর মধ্যে আয়করের প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা অগ্রগতি থাকলেও শুল্ক ও ভ্যাট আদায়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে এনবিআর। এ অবস্থায় বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।