আফগানদের চোখ এবার বিশ্বকাপে

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৯, ২১:৩৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত টেস্ট খেলতে নেমেই জিতে যাওয়া আফগানরা এখন উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছে। তবে এই উচ্ছ্বাসের মধ্যে এখন ক্রিকেটেই সম্পূর্ণ মনোযোগ তাদের। আর এই মনোযোগটা দিয়েই এবার আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের জাত চেনাতে মুখিয়ে আছে দলটি।

দেশটির তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী দাবি করেছেন চাইলে যেকোনো দলকেই হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তার দল, সেটা যেকোনো ফরম্যাটের জন্যই সত্যি। তিনি বলেন, ‘সীমিত ওভারে নিজেদের সক্ষমতা আমরা আগেই প্রমাণ করেছি। এবার টেস্টে নিজেদের যোগ্য বলে প্রমাণ করল। নিজেদের দিনে আমরা যে কাউকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি।’

নবীর কথার সাথে পুরোপুরি একমত পোষণ করেছেন রশিদ খান। তিনি বরং একধাপ বাড়িয়েই বললেন। দাবি করলেন, আফগানরা এবার বিশ্বকাপে বড় কিছু করে দেখাতে চায়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিভা আছে, আমাদের দক্ষতা আছে। বিশ্বকাপে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই যে, আমরা কাউকেই ভয় পাই না।’

আফগানিস্তানের এই ভয়ডরহীন মানসিকতা ক্রিকেট বিশ্বে বেশ প্রশংসিত। রশিদ খান এশিয়া কাপের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘এশিয়া কাপে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলেছি। সেই আসরেই আমরা প্রমাণ করেছি যে, যে কোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি আমরা।’ এশিয়ায় বাকি দলগুলোর জন্য সত্যিকার অর্থেই বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠেছিল এই আফগানরা।  রশিদ খান জানালেন, আত্মবিশ্বাসই তার দলের মূল শক্তি। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। আমরা সব সময় বিশ্বাস করি যে, নিজেদের দক্ষতায় বিশ্বাস রাখাটা খুব জরুরি। খেলার মাঠে আমরা সবসময় নির্ভার থাকি। খুব বেশি চাপ নিয়ে নিজেদের খেলাটা উপভোগ করতে চাই। এটাই আমাদের মূলমন্ত্র।’

সর্বশেষ ভারতের দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে সাত উইকেটের বড় জয় আদায় করে নেয় আফগানিস্তান। এটা ছিল আফগানিস্তানের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। এর আগে এত কম সময়ে টেস্ট জয়ের নজির গড়েছিল আরো চারটি দল। এর মধ্যে প্রথম টেস্টেই জিততে পেরেছে কেবল অস্ট্রেলিয়া। সেটা অবশ্য টেস্টের ইতিহাসেরই প্রথম ম্যাচ। অন্যদিকে প্রথম টেস্ট জিততে দু’টি করে ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। এবার তাদের সাথে যোগ হলো আফগানিস্তানের নাম।

রশিদ খান মনে করছেন, এই জয়ের প্রভাবে এখন আফগান দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘এই জয়টা আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের জন্য খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক হবে। আমাদের ওখানে এমনিতেই ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খুব জনপ্রিয়। এখন আস্তে আস্তে টেস্টের জনপ্রিয়তাও বাড়বে।’