দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন খাস খাল ও জলাশয়ে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে অবৈধ দখলদাররা খাল ও তার শাখা-প্রশাখা দখল করে বসতবাড়ি এবং দোকান ঘরসহ তৈরি করেছে বিভিন্ন স্থাপনা।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন উপকূল ঘেঁষা এ উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে অসংখ্য নদী। এক সময় পুরো এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেত আর ভাটায় জাগতো। ফলে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতো। মানুষের এই আপাত সংকট থেকে রক্ষা করতে স্বাধীনতার আগে থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা জুড়ে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীরের মতো ওয়াপদা বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করে। ওয়াপদার বাঁধ নির্মিত হওয়ায় মাঙ্গা, ঝপঝপিয়া, কাজিবাছা, পশুর, ভদ্রা, ঢাকী ও শিবসা প্রভৃতি নদীর শাখা-প্রশাখা খালে এবং জলাশয়ে পরিণত হয়ে স্থানীয়ভাবে খাল ও জলাশয়গুলো বিভিন্ন নাম ধারণ করে প্রবাহিত হয়। ওয়াপদার বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানি সরবরাহের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থাপন করে প্রায় ৫০টি স্লুইচ গেট, যা দিয়ে ওই সকল খালের পানি স্বাভাবিক প্রবাহ বিদ্যমান থাকে। কিন্তু গত দুই দশকে রাজনৈতিক, সামাজিক লাঠিয়াল বাহিনী ও বাহু শক্তির প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ২২৮টি খাল ও জলাশয়ে এবং তার শাখা-প্রশাখা দখল হয়ে গেছে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এর মধ্যে জলমহল ১১৪টি, ২০ একরের নিচে ৮৬টি ও ২০ একরের উপরে ২৮টি বলে ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে বেঁচে থাকা উপজেলার বাজুয়া, চড়া, আচাঁভূয়া ও ভদ্রা নদীর খালগুলো অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। সরকারের কাছ থেকে নামমাত্র ইজারা নিয়ে অথবা গায়ের জোরে খালগুলো দখল করে অবৈধ বাঁধ, নেট পাটা এবং মাটি দিয়ে পাড় ভরাট করে ভূমির পরিবর্তনসহ খালগুলোর গতিপথে বাধার সৃষ্টি করেছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসব সম্পত্তি যৌথ বাহিনীর উদ্যোগে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে অনেক সম্পত্তি উদ্ধার হয়। কিন্তু ওইগুলো আবার দখল হয়ে গেছে। দিন দিন এ সংকট বাড়ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত। এতে শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটে পড়ে কৃষি কাজে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে। ফলে কৃষক হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী অফিসার মৃনাল কান্তি দে বলেন, ওইসব অবৈধ দখলদারদের ইতোমধ্যে নোটিস দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা দখলমুক্ত না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
