অনুমোদনহীন রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ প্রাইভেটকার আরোহী। দুর্ঘটনায় জীবিত আছেন মাত্র একজন। জেলায় সদর উপজেলার মানিকদিহী রেলক্রসিংয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। নিহতরা হলেন— নিত্যরঞ্জন দাসের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র চয়ন দাস (১২), তার মামাতো ভাই খতিয়াখালী গ্রামের সুব্রত দাসের ছেলে বাঁধন (১৫), শাশুড়ি জয়া রানী দাস (৭৫), প্রাইভেট কারের মালিক ও একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম রাজু এবং প্রাইভেট কার চালক কেশবপুরের বাইশা গ্রামের আব্দুল হাকিম। দুর্ঘটনায় আহত দীপিকা দাস (৪০) যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন।
নিত্যরঞ্জন দাসের ভাই চিত্তরঞ্জন দাস জানান, তার ভাইয়ের স্ত্রী দীপিকা রানী তার বাবার বাড়ি কেশবপুরের খতিয়াখালীতে কয়েকদিন আগে ছেলেসহ বেড়াতে গিয়েছিলেন। ছেলে, ভাইয়ের ছেলে ও মাকে সাথে নিয়ে গতকাল তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরছিলেন। তারা তিনজনই নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন দীপিকাকে এ খবর জানানো হয়নি। আর তার স্বামী নিত্যরঞ্জন দাস সন্তানসহ স্বজন হারানোর শোকে বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন। তীরেরহাট বাড়িতে আত্মীয়রা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ঘটনাস্থলে অবস্থানকারী যশোর রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইদ্রিস আলী মৃধা ইত্তেফাককে জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ওই রেলক্রসিং অতিক্রমকালে নম্বরবিহীন একটি প্রাইভেট কারও রেললাইন পার হবার চেষ্টা করে। ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেট কারটি চুরমার হয়ে যায়। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়। নিহত জয়া রানী দাসের মৃতদেহ আহত পাঁচজনকে চিকিত্সার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ডা. কল্লোল কুমার সাহা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাঁধনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোয় পথে তার মৃত্যু হয়। সেখান থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। জয়া রানী দাসের লাশ জামাই নিত্যরঞ্জন দাসের বাড়িতে রাখা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই মর্গ থেকে লাশ স্বজনরা নিয়ে যান।
তিনি আরো জানান, অনুমোদহীন এই রেলক্রসিংয়ের পাশের রাস্তাটি ইউএসএআইডি নির্মাণ করেছে বলে সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। এ রেলক্রসিংয়ের বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেই। এ জন্য এখানে গেট ও গেটম্যান কোনটিই ছিল না। দুর্ঘটনাস্থল থেকে হতভাগ্য নিত্যরঞ্জন দাসের তীরেরহাটের বাড়ির দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রেনের সামনে আটকে থাকা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া প্রাইভেট কারটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রেললাইনের ধারে ছিটকে পড়ে। কারের মালিক নিহত রেজাউল করিম রাজুর স্বজনদের কাছে পুলিশ এটি হস্তান্তর করবে।
