ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার ঘটনা নিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। এ কারণে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সকে তুরস্কে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে এরদোগানের বক্তব্যকে ‘হঠকারী’ ও ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।
তুরস্কে এক নির্বাচনী সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে এরদোগান বলেন, নিউজিল্যান্ড শাস্তি না দিলে তুরস্ক হামলাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করবে। নিজ দেশে ৩১ মার্চের স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ইসলামপন্থি এ কে পার্টির সমর্থকদের উদ্দীপিত করতে এরদোগান এমন কথা বলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চে হামলার সময় সন্ত্রাসী ট্যারেন্ট ফেসবুকে হামলার ঘটনাটি সরাসরি সমপ্রচার করেছিলো। এরদোগানের ওই নির্বাচনী সমাবেশে সেই ভিডিও ফুটেজটিও দেখানো হয়।
এ বিষয়ে ক্রাইস্টচার্চে সাংবাদিকদের আর্ডেন বলেন, ‘ওই মন্তব্যগুলো নিয়ে তুরস্কে আমাদের উপ-প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি কথা বলবেন। তিনি সেখানে যাচ্ছেন সামনাসামনি কথা বলতে।’ তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে পিটার একে পার্টির নির্বাচনী সমাবেশে ওই সন্ত্রাসী হামলার ফুটেজ দেখানোর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এ কাণ্ড বিদেশে থাকা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের বিপদে ফেলতে পারে। তবে তার এ উদ্বেগ সত্ত্বেও মঙ্গলবার এরদোগানের আরেকটি সমাবেশে আবারো মসজিদে গুলি চালানোর ফুটেজটি দেখানো হয়।
এদিকে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও এরদোগানের বক্তব্যকে ‘হঠকারী’ ও ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক’ আখ্যায়িত করে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। মরিসন সতর্ক করে বলেন, এরদোগানের এ ধরনের মন্তব্যের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে তিনি নতুন করে বিবেচনা করতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান যে মন্তব্য করেছেন আমি তাকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মনে করছি। ঠিক এই স্পর্শকাতর ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত হঠকারিতামূলক ও বিপজ্জনক।’
ওই একই বক্তৃতায় এরদোগান ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনাকে তুরস্ক ও ইসলামের ওপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ওই হামলাকারীর মতো মনোভাবাপন্ন মুসলিমবিরোধী অস্ট্রেলীয়দেরও হুঁশিয়ারি দেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে গ্যারিপলির পূর্বপুরুষদের মতো তাকেও ‘কফিনে উঠতে হবে’। প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে সমুদ্র তীরবর্তী শহরটিতে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আট হাজারের বেশি অস্ট্রেলীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
