আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সব সীমান্ত বন্ধ করে দেবে ভারত। দেশটির সীমান্ত সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সেক্রেটারি সুশীল কুমার বলেন, আমরা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি। নদীগুলোর যেখানে বেড়া দেয়া সম্ভব হবে না, সেখানেও সীমান্ত বন্ধে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি জানান, কাঁটাতারের বেড়া আসলে আমাদের প্রয়োজন। ত্রিপুরার মতো আমরা মেঘালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। দুইদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেও কথা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোটা অঞ্চল জুড়েই আমরা বেড়া দেয়ার চেষ্টা করছি।
আর আসামের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। দুইবছরের মধ্যে সেই সীমান্ত বন্ধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, একটি রিভিউ মিটিংয়ে বলা হয়েছে মুখ্য সচিব ওয়াই পি সিংয়ের নেতৃত্বে সবাই কাজ করছে। ওই সভায় তিন রাজ্যের আটটি জেলার ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ত্রিপুরা- বাংলাদেশ সীমান্তের বেড়া দিতে যে সমস্যা হচ্ছে তা কাটিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
জেলার ম্যাজিট্রেট ছাড়াও বিএসএফের কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে কাজ করছেন। ত্রিপুরা রাজ্যে সীমানা বন্ধ করার জন্যই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপুরার সীমানা নিয়েই মূলত আলোচনা করা হচ্ছে। কারণ এই সীমান্তে বেশি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে প্রথা একই। মানুষের মধ্যে কৃষ্টি সংস্কৃতি একই হওয়ায় তাদের সীমান্ত বন্ধ করা একটু সমস্যার।
সঠিক সময়ে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহায়তার প্রয়োজন বলেও তিনি জানান। স্থানীয় ইস্যুটি নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের সহায়তা করা প্রয়োজন। কিছু জিরো পয়েন্টের স্পটে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে যতি ভারত চায়। কুমার বলেন, কিছু জিরো পয়েন্টে বেড়া দেওয়া প্রয়োজন তবে এটি সম্ভব হবে যদি বাংলাদেশ সরকার এই ইস্যুতে সম্মত হয়। আলোচনার পরেই আমরা এই বিষয়ে কাজ করতে পারবো। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সীল করাই আমাদের কাছে সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া মিয়ানমারের কিছু সীমান্তেও বেড়া দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কুমার বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টের ভিন্নতা রয়েছে। সংস্কৃতির অমিল থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে যেভাবে আলোচনা করা হচ্ছে মিয়ানমারের সঙ্গে তা একইভাবে হবে না। মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে ভিন্নভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশের তিন দিক দিয়েই ভারতের সীমানা রয়েছে। ত্রিপুরার সঙ্গেই বাংলাদেশে ৮৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
