আমড়াগাছিয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে ছালেহিয়া শরীফের একটি খানকা ওই এলাকায় স্থাপিত হয়। খানকা স্থাপনের পর ২০১৪ সালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে কোস্টাল ক্লাইমেট চেইঞ্জ রেজিলেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট (সিসিআরআইপি)-এর মাধ্যমে উপজেলা এলজিইডি তিন কোটি ৮৫ লাখ ৪৪০ টাকা ব্যয়ে দ্বিতলা একটি সাইক্লোন শেল্টার ভবন নির্মাণ করে। সেখানে যাতায়াতের জন্য ১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কটি পশ্চিমে আমড়াগাছিয়া স্কুল থেকে খানকার অভ্যন্তর হয়ে মূল ফটক দিয়ে আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের সাথে মিলিত হয়েছে। কিন্তু এই বাইপাস সড়ক দিয়ে কোনো নারী চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় নারীরা এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে খানকা শরীফের লোকজনের হাতে নাজেহাল হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী জানান, গেট দিয়ে কোনো নারী ঢুকতে দেখলেই প্রথমে বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল। অনেক নারী পাল্টা কথা বললে তাদের হেনস্থা করা হয়। এতদিন খানকা কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে এ কাজটি করলেও বর্তমানে তারা শেল্টারের পাশ দিয়ে সরকারি টাকায় নির্মিত সড়কে একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে তাতে লেখা রয়েছে: ‘এই সড়ক দিয়ে মহিলাদের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ’। সাইন বোর্ড ঝুলানোর পর কোনো নারী এখন আর ওই সড়ক দিয়ে চলাচলের সাহস করে না। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে খানকা শরীফের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত মো: আব্দুল মন্নান মৃধা জানান, পীরের নির্দেশে খানকা শরীফের সড়ক দিয়ে মহিলাদের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘সব জায়গায় সকল নাগরিকের চলাচলের সমান অধিকার রয়েছে। খানকা শরীফের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে এ রূপ হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
