নিজস্ব ফোন নিয়ে স্মার্টফোন যুদ্ধে নামছে গুগল

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৬, ১১:০৫
নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম আছে গুগলের, কিন্তু তাও মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির নিজেদের ব্র্যান্ড-নামে বাজারে নেই কোনো স্মার্টফোন। গুগলের নেক্সাস সিরিজের যে ফোনগুলো বাজারে পাওয়া যায় তার সাথে জুড়ে আছে মূলত এইচটিসি, হুয়াওয়ে ও এলজির নাম। তবে এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে চলেছে সার্চ জায়ান্ট থেকে প্রযুক্তি জায়ান্টে পরিণত হওয়া এই প্রতিষ্ঠান।
 
এক খবরে ডেইলি টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, স্মার্টফোনের বাজারে পা রাখতে চলেছে গুগল। আইফোনের মতো মোবাইল হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার-দুই ক্ষেত্রেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে নিজস্ব স্মার্টফোন ব্র্যান্ড বাজারে আনার কথা ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যেই নামকরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হ্যান্ডসেট উৎপাদনের বিষয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু করে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
 
বিশ্বে বিক্রিত প্রতি ৫টি স্মার্টফোনের মধ্যে চারটিতেই গুগলের তৈরি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্মার্টফোন উৎপাদনে বাজারে শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং, গুগল নয়। অন্যদিকে, আইওএস অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত ডিভাইসের ব্যবসায় অ্যাপলের একাধিপত্য। আর তাই ব্যবসা সম্প্রসারণে শুধু অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমই নয়, এবার নিজস্ব স্মার্টফোন আনার পরিকল্পনা করছে গুগল।
 
সূত্রের প্রতিবেদনে প্রকাশ, এতদিন গুগল স্মার্টফোনের নকশা, বিপণন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। তাদের নেক্সাস ব্র্যান্ডের ডিভাইসগুলো 'অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট মেকার' বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৈরি হয়। জনপ্রিয় নেক্সাস ডিভাইসে অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার থেকে শুরু করে যাবতীয় আপডেট সরবরাহ করে গুগল। এইচটিসি, হুয়াওয়ে ও এলজির মতো ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নেক্সাস স্মার্টফোন তৈরি করে গুগল। কিন্তু এবার আর অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, বরং নিজেই ডিভাইস উৎপাদনে নামছে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি।
 
সূত্রের খবরে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষদিকে স্মার্টফোনগুলোর বিক্রি শুরু হয়ে যাবে বিশ্বজুড়ে। এর ফলে গুগল প্লে অ্যাপ, সার্চ ইঞ্জিন ও সফটওয়্যারের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে পারবে গুগল।
 
গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই গত মাসে বলেছিলেন, ফোনের বাজারে আরও বিনিয়োগ করবে গুগল। পাশাপাশি অবশ্য নেক্সাস ডিভাইসকে 'সাপোর্ট' দেওয়াও চলবে।
 
গত এপ্রিলে ইউরোপিয় কমিশন গুগলের বিরুদ্ধে ব্যবসায় মনোপলি-র অভিযোগ তুলে বলেছিল, অ্যান্ড্রয়েড ও গুগল প্লেস্টোর ব্যবহার করে গুগল ক্রোম ও গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে জোর করে ব্যবহারকারীদের কাছে ‘পুশ’ করা হচ্ছে। গুগলের এই নতুন পদক্ষেপ তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপিয় ইউনিয়নের অভিযোগের পাল্লাকে আরও ভারী করে তুলতে পারে।