৭০ বছর পর যশোরে কালাজ্বরের রোগী

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৬, ২১:১১
যশোরে প্রায় সাত দশক পর কালাজ্বর সনাক্ত হয়েছে। বুধবার কালাজ্বর নিশ্চিত হওয়ার পর তাসলিমা খাতুন (৩৫) নামের এক রোগীকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
তিনি যশোর সদর উপজেলার নূরপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া রিকসা চালক নজরুল ইসলাম শেখের স্ত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কালীনগর গ্রামে। ১৯৪৭ সালের পর যশোরে কালাজ্বরের রোগী সনাক্ত করা হলো।
 
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল জানান, কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগী তাসলিমার চিকিৎসা চলছে। সরকারের কালাজ্বর নির্র্মূল প্রকল্পের আওতায় তার চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা ঢাকা থেকে চিকিৎসার জন্য শিগগির যশোরে আসছেন। একইসঙ্গে ময়মনসিংহের কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদেরও এই রোগীর বিষয়ে জানানো হয়েছে। তারাও এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
 
সিভিল সার্জন আরও বলেন, যশোরে ১৯৪৭ সালে কালাজ্বরের রোগী সনাক্তের রেকর্ড আছে। এরপর গত সাত দশকে এই রোগে আক্রান্ত কোনো রোগীর সন্ধান মেলেনি। এবার তাসমিলা খাতুনের শরীরে কালাজ্বর সনাক্ত করা হয়েছে।
 
উকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, কালাজ্বর হলো Visceral leishmaniasis, Sahib's disease, Dumdum fever, Black fever একটি রোগ যা লিশম্যানিয়াসিস রোগের কয়েকটি প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর। লিশম্যানিয়া গণভুক্ত একপ্রকার প্রোটোজোয়া পরজীবী এই রোগের কারণ। বেলেমাছির কামড়ের দ্বারা এটা বিস্তর লাভ করে। পরজীবী-ঘটিত রোগগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রোগ। বাংলাদেশের ৪৬টি জেলায় কালাজ্বর দেখা যায়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ, পাবনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও জামালপুর অঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।
 
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য বলেন, কালাজ্বরের জীবাণুর বাহক বেলেমাছি। এই রোগকে ইনফেশন ডিজিজ বলা হয়। বুধবার পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে তাসলিমার শরীরের কালাজ্বরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
 
তিনি আরো বলেন, কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব ময়মনসিংহ অঞ্চলে দেখা যায়। যশোর অঞ্চলে ১৯৪৭ সালের পর দেখা যায়নি। প্রায় সত্তর বছর পর যশোরে আবার কালাজ্বরের রোগী সনাক্ত হলো।
 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাসলিমা খাতুন জানান, ৬-৭ মাস আগে তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়েছেন। সর্বশেষ যশোর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম কুমার আচার্যের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ৪-৫ দিন আগে তার শরীর পরীক্ষা করে কালাজ্বরে আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।  
 
আক্রান্ত মহিলার স্বামী রিকশাচালক নজরুল ইসলাম শেখ বলেন, অনেক ডাক্তার দেখিয়েও তার জ্বর কমছিল না। ডাক্তার সাহেব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান কালাজ্বর হয়েছে। এতদিনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন হাসপাতালে ভর্তির পর সরকারিভাবে চিকিৎসা চলছে। নজরুল ও তাসলিমা দম্পতির তিন ছেলে মেয়ে রয়েছে। ছোট জমজ ছেলে দুটোর বয়স তিন বছর, বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর।