মাটির নীচে সবজি সংরক্ষণাগার!

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৬, ০১:০৭
পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ধামরাইয়ের কাদের আলী, উপজেলার সুঙ্গর গ্রামে তার বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এসডিআই-এর ভোক্তা সদস্য চাষি কাদের আলী বিষমুক্ত সবজি উত্পাদন ও বাজারজাত করে আসছেন। এবার কাদের আলী তার বাড়িতে মাটির নিচে নির্মাণ করেছেন প্রাকৃতিক ফ্রিজ বা সবজি সংরক্ষণাগার। যার জন্য কোনো জ্বালানি বা বিদ্যুতের দরকার হয় না। সফল বিষমুক্ত সবজি চাষি হিসেবে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পিকেএসএফ কাদের আলীকে দেশের বিভিন্ন সংস্থার চাষিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সবজি চাষি হিসেবে পুরস্কৃত করে। শুধু কাদের আলী নয়, ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় অনেক চাষি দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সঙ্গে বাণিজ্যিকভিত্তিতে বিষমুক্ত সবজি উত্পাদন ও বাজারজাত করে আসছেন। কিন্তু সংরক্ষণাগারের অভাব চাষিদের একটা বড় সমস্যা।
 
এলাকায় সংরক্ষণাগার না থাকায় প্রচুর সবজি নষ্ট হয়ে যায় এবং চাষিরা উপযুক্ত মূল্য থেকেও বঞ্চিত হন। এ সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পিকেএসএফ এবং এসডিআই-এর সহযোগিতায় কাদের আলী তার বাড়িতে মাটির নিচে নির্মাণ করেছেন প্রাকৃতিক ফ্রিজ বা সবজি সংরক্ষণাগার। সাধারণত সকাল ও বিকেলে ক্ষেত থেকে সবজি তোলেন চাষিরা। সকালের সবজি বাজারে নিতে পারলেও বিকেলেরগুলো নেয়া হয় পরদিন। ফলে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু প্রাকৃতিক ফ্রিজে সবজি রাখলে তিনদিন তাজা থাকে।
 
কাদেরের বাড়িতে একটি খোলা ঘরে ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ওই ফ্রিজ। প্রথমে পাঁচ ইঞ্চি পুরু দেয়াল, তারপর ২.৫ ইঞ্চি ফাঁক রেখে ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে আর একটি ২.৫ ইঞ্চি দেয়াল। দুই দেয়ালে ফাঁকা জায়গাটুকু বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। নির্মাণ কৌশল অনেকটা ফ্লাস্কের মতো।

 

মেঝেতে বালি ছিটিয়ে খানিক দূরে দূরে ইট বিছিয়ে তার উপর পেতে দেয়া হয়েছে বাঁশের মাচা। সকাল-বিকেল পানি দিতে হয় দুই দেয়ালের ফাঁকে। ফলে ভেতরটা থাকে বেশ ঠান্ডা। প্লাস্টিকের কেস বা বাঁশের ঝাঁকায় বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫ মণ সবজি রাখা যায় ফ্রিজটিতে। এর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। পিকেএসএএফ এবং এসডিআই ফ্রিজটির সম্পূর্ণ নির্মাণ ব্যয় ও প্রযুিক্তগত সহযোগিতা দিয়েছে বলে জানান কাদের আলী।