পৌরসভার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৬, ০১:১১
ছোট্ট শিশু শাফি। এ বছর ভর্তি হয়েছে বাড়ির অদূরের একটি স্কুলের শিশু শ্রেণিতে। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় প্রায় মাসখানেক থেকে বিদ্যালয়ে গমন অনেকটা রুদ্ধ হয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী পুকুরের ক্ষুদেপানা রাস্তাটি ঘিরে ধরেছে। অবশেষে বাবার কাঁধে চড়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া তার। শুধু শাফি নয় তার সহপাঠী মারিয়া, আকাশ, রামিম, রুপালি বড় ভাই রাফিসহ অন্যান্য স্কুলের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থীকে এ পানি ভেঙে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থী ছাড়াও ওই মহল্লার ৭০০-৮০০ লোক এবং লাকসাম বাজারে আগত শত শত মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। প্রথম শ্রেণির লাকসাম পৌরসভার রাজঘাট এলাকার চিত্র এটি। একই এলাকার রাজঘাট-কাজীপাড়া রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ যাতায়াতে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন।
 
সরেজমিন দেখা গেছে, এ দৃশ্য শুধু এখানেই নয়, পৌরসভার সিংহভাগ পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট জনসাধারণের যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তায় খানাখন্দ আর বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, মানুষজনের পায়েহাঁটা দায় হয়ে পড়েছে। লাকসাম পৌরসভার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক বাইপাস রোড থেকে সাহাপাড়া হয়ে নোয়াখালী সংযোগ রোডের করুণ অবস্থায় পথচারীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে। উপজেলা রোডের কারবালা দীঘির পূর্ব পাশের রাস্তাটি যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো এলাকার দৃশ্য।
 
লাকসাম হাউজিং এস্টেটের একাধিক রাস্তায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ওই পথে যাতায়াতকারী বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সদরে আসা লোকজন ভোগান্তি পোহাচ্ছে। লাকসাম ব্যাংক রোডের অবস্থা এতই করুণ যে, কোনো রিকশা এ রাস্তায় আসতে চায় না। বিভিন্ন ব্যাংক ও পাইকারি দোকান থাকায় ভোগান্তি সয়েই অগত্যা এ রোডে আসে মানুষজন। লাকসাম-আউশপাড়া-মুদাফরগঞ্জ রোডের রাজঘাট অংশসহ বেশ কিছু স্থানে রাস্তা ভেঙে যাওয়া যানবাহন ও জনসাধারণ যাতায়াতে ভীষণ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। উপজেলা রোডে পায়ে হেঁটে কিংবা রিকশা অথবা অন্যান্য যানবাহনে চলাচল পীড়াদায়ক হয়ে পড়েছে। এসব রাস্তাঘাট দেখলে মনে হয়— এটি কোনো প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নয় বরং কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার দৃশ্য।