বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রতি কিছু পরিবর্তন এসেছে। সংবাদ প্রচারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যথাযোগ্য গুরুত্ব দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের সিনিয়র মন্ত্রী-নেতাদের বক্তব্য ও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বৈষম্য কমে গেছে। বিগত ৫ বছর দেখা গেছে, বিটিভির সংবাদে প্রধানমন্ত্রীর পরেই ছিল তথ্যমন্ত্রীর মুখ। তথ্যমন্ত্রীর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, বক্তব্য-বিবৃতি এবং তার দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড গুরুত্ব দিয়ে প্রচারিত হতো বিটিভিতে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র কোনো কোনো মন্ত্রী বা নেতার খবরও তেমন ছিল না। সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে গত ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর। সরকারি প্রচার-প্রচারণার মুখপাত্র হিসেবে এখন বিটিভি পুরনো চরিত্রে ফিরেছে আবারো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রাত্যহিক কার্যক্রম, সিনিয়র মন্ত্রী-নেতা ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড গুরুত্ব অনুসারে প্রচার করছে বিটিভি।
এই পরিবর্তনে খুশি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। কারণ বিগত ৫ বছর বিটিভিতে তথ্যমন্ত্রীর আধিপত্য নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন সমালোচনামুখর। তারা বিভিন্ন সময় ক্ষোভ-বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি মন্ত্রী পরিষদে বড় ধরনের রদবদল হলে হাসানুল হক ইনু বহাল থাকলেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়ে যোগ দেন তারানা হালিম। তবে তাতে করে বিটিভিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া সিনিয়র মন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের বক্তব্য-কর্মকাণ্ড প্রচারণায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ দিকে, বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সময় পরিক্রমায় এসেছে নানা পালাবদল। দেশে প্রায় ৩৫টি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের ভিড়ে একমাত্র টেরিস্ট্রিয়াল বা ভূপৃষ্ঠ থেকে সম্প্রচারের কারণে বিটিভির দর্শক অভাবনীয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৮০ ভাগ দর্শক এখনো বিটিভি দেখেন। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর মূলত এটি পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করত। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তান টেলিভিশনকে নাম পরিবর্তন করে করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন। আর তখন থেকেই এই ভিজ্যুয়াল সম্প্রচার মাধ্যমটি সরকারের মুখপাত্র হিসেবে সরকারি খবর প্রচার করে থাকে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত যখনই সরকারে পরিবর্তন এসেছে, যথারীতি সেই নতুন সরকারের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
