বিশেষ প্রতিনিধি
মহাসংকটে পড়েছে ভারতের বিমান সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ। আর্থিক সংকটে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এ সংস্থার বিমানগুলো। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি মার্চ মাসের মধ্যে জেট এয়ারওয়েজ তাদের বৈমানিক এবং অন্যান্য স্টাফদের বেতন পরিশোধ না করলে তারা উড্ডয়ন বন্ধ করে দেবে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত জেট এয়ারওয়েজ এক’শটি প্লেন বসিয়ে দিয়েছে।
জেট এয়ারওয়েজের প্লেন কমিয়ে দেওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। আগে সপ্তাহের চারদিন তিনটি এবং তিনদিন জেটের চারটি প্লেন চলাচল করতো। ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-দিল্লী, ঢাকা-মুম্বাই রুটে এ প্লেনগুলো চলাচল করতো। এখন ঢাকা-দিল্লী রুটে সপ্তাহে মাত্র তিনটি ফ্লাইট চলাচল করছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জেট এয়ারওয়েজ এর এখন দেনারপরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এর মধ্যে ব্যাংকের পাওনা যেমন আছে তেমনি কর্মচারীদের বেতন এবং লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের কিস্তিও রয়েছে। গত মঙ্গলবার জেট-এর কোম্পানি সচিব কুলদীপ শর্মা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে চিঠি দিয়ে আরো ছয়টি ফ্লাইট বাতিলের কথা জানান। এরপর সর্বমহলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাদ এয়ারলাইন্স জেট এয়ারওয়েজের ২৪ শতাংশ শেয়ার ধারণ করে। বাকি শেয়ার ভারতের ব্যবসায়ী নরেশ গয়ালের হাতে রয়েছে। জেট এয়ারওয়েজকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে ইতিহাদ অর্থ দিতে চায়। কিন্তু নরেশ গয়াল কোম্পানি থেকে তার চেয়ারম্যান পদ না ছাড়ায় ইতিহাদ অর্থ দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, জেট ভারতের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন্স। সস্তা টিকেটের এয়ারলাইন্স ইনডিগো এবং স্পাইসজেট বাজারে আসায় জেট এয়ারওয়েজের কদর কমছে।
