ইত্তেফাক ডেস্ক
পুলিশ হেফাজতে এক শিক্ষকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত শাসিত কাশ্মির। রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম রিজওয়ান আসাদ পন্ডিত। তিনি ছিলেন স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক এবং সমপ্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাতে ইসলামির একজন সক্রিয় কর্মী। খবর বিবিসি’র
রাজ্যের অবন্তীপুুরায় বাড়ি থেকে রিজওয়ান আসাদকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু জানা না গেলেও পুলিশের বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, জঙ্গিবাদে জড়িত সন্দেহেই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে তার পরিবার কিংবা মানবাধিকার কর্মীরা সেই দাবি মানছেন না। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জাতীয় সড়কের ওপর আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি ভারতীয় সৈন্য নিহত হন। ওই এলাকা থেকে রিজওয়ানের বাড়ি খুব বেশি দূরে নয়। তার বাবা আসাদউল্লাহ পন্ডিত কাশ্মিরে জামাতে ইসলামির একজন রোকন, ছেলেও যুক্ত ছিলেন সেই সংগঠনের কাজে।
রিজওয়ানের ছোট ভাই জুলকারনাইন জানান, রবিবার রাতে স্থানীয় থানার পুলিশ ডিএসপি’র নেতৃত্বে আমাদের এলাকায় হানা দিয়ে দুই-তিনটে বাড়ি ঘিরে ফেলে। তারপর মহিলাদেরসহ পরিবারের বাকি সবাইকে বাইরে একটা ঘরে আটকে রেখে ওকে তুলে নিয়ে যায়। তারা হুমকিও দিয়ে যায়, এ খবর যেন আমরা বাইরে কাউকে না বলি। পরদিন থানায় খোঁজ নিতে গিয়ে শুনি ওকে শ্রীনগরের কার্গো ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শুনতে পাই ওকে মেরেই ফেলা হয়েছে। অথচ ওর সাথে জঙ্গিদের কোনো সম্পর্কই ছিল না, এটা ঠান্ডা মাথায় একটা খুন। আমরা যার তদন্ত চাই।
রিজওয়ান আসাদের মৃত্যু হয়েছে এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ক্ষুব্ধ তরুণরা রাস্তায় নেমে আসেন। ভারতবিরোধী সভা-সমাবেশ থেকে স্লোগাও উঠতে থাকে, রিজওয়ানের রক্ত কাশ্মিরে বিপ্লব আর আজাদী এনে দেবে। কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হামিদা বানো বলেন, বর্বরতাও যে কত স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে এই ঘটনা তার একটা জ্বলন্ত দৃষ্টান্তু। ভারতে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই যেন তারা মুসলিমদের নির্মূল করার এজেন্ডা নিয়ে চলছে। কাশ্মিরে সেটা আগেও ছিল, কিন্তু এখন আর কোনো রাখঢাক নেই। কাশ্মিরে গত মাসে যে জামাতে ইসলামিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে এখন জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন অধ্যাপক বানো। তিনি বলেন, ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন জামাত কাশ্মিরে খুবই প্রভাবশালী। কিন্তু বিগত পনেরো বছরে তারা নিজেদের অনেক পাল্টে নিয়েছে, জঙ্গিবাদ থেকে একেবারেই সরে এসেছে।
