ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাস চাপায় নিহত বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহম্মদ চৌধুরীর পরিবারকে তাত্ক্ষণিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে দশ লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে সুপ্রভাত পরিবহন কর্তৃপক্ষকে এই অর্থ দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। এছাড়া আবরারের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করা হয়েছে। রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় দুই সপ্তাহের মধ্যে এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বিআরটিএ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ও বুয়েটের অ্যাকসিডেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বিইউপির বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকার সময় সুপ্রভাত নামক বাসটি জেব্রা ক্রসিংয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে নিহত হয় বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার। এ ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। পরদিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে শীর্ষ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।
শুনানিতে ব্যারিস্টার কাজল বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম তুলে ধরে বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারিয়েছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক। এর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজিব ও মিমের পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রশ্নে হাইকোর্ট রুল জারি করে। আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা তাত্ক্ষণিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্ধ কোটি টাকা প্রদানের জন্য আদালতের নির্দেশনা চাচ্ছি। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য রুল জারির আবেদন করেছেন। আবার তাত্ক্ষণিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্ধ কোটি টাকা চেয়েছেন। এটা কেমন হলো? জবাবে ব্যারিস্টার কাজল বলেন, এর আগে রাজিব ও মিমের পরিবারকে হাইকোর্টের আদেশে দশ লাখ টাকা দিয়েছে জাবালে নূর পরিবহন কর্তৃপক্ষ। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আবরারের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেয়। তখন আদালতে থাকা অন্যান্য আইনজীবীরা দাঁড়িয়ে বলেন, এই টাকা খুবই সামান্য। এটা বাড়িয়ে দশ লাখ টাকা করে দিলে ভালো হয়। এরপরই হাইকোর্ট দশ লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল উপস্থিত ছিলেন।
