নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, এদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম বিশৃঙ্খলা ঢুকে গেছে। এগুলোর সমাধান দেশের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। যদি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ব্যর্থ হন, তাহলে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসে সমস্যার সমাধান করবে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি মেনে নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ মিছিলসহ শাহবাগ মোড়ে এসে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আশেপাশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দেয়।
এদিকে দিনভর অবরোধের পর আট দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকাল দশটা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগের রাস্তা ছেড়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। ডাকসু ভিপি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী এই যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছে। এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দমনে হাতুড়ি-হেলমেট বাহিনী বর্বর ভূমিকা পালন করেছিল। একদিকে বলা হয়েছিল যে, শিক্ষার্থীরা তাদের চোখ খুলে দিয়েছে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘আজকে শিক্ষার্থীরা যে আট দফা দাবি দিয়েছে তার প্রত্যেকটি মানতে হবে। গত নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল তা আজকের মধ্যেই তুলে নিতে হবে। এ দেশের ছাত্রসমাজ কখনো অন্যায় করেনি। এদেশের ছাত্রসমাজ মুক্তিকামী মানুষের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিল, আছে এবং থাকবে।’
শিক্ষার্থীদের আট
দফা দাবি
গতকাল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়— এক, পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং প্রতিমাসে বাসচালকের লাইসেন্সসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে হবে। দুই, আটক হওয়া চালক ও সম্পৃক্ত সকলকে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিন, ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুততম সময়ে অপসারণ করতে হবে। চার, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় সকল স্থানে আন্ডার পাস, স্পিড ব্রেকার ও ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। পাঁচ, চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়কে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ছয়, দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাত, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রী ছাউনি করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আট, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফপাস অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
