উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুর রহমান শহিদ ও বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুশফিকুর রহমান খান হান্নান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় নৌকা মার্কার কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বায়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান মনিরুজ্জামান হিরুকে (৬৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বায়রা বাজারে ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় আহত মনিরুজ্জামান হিরুর ছেলে দেওয়ান শরিফুজ্জামান সৈকত থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক উবায়েদুল হকসহ ৭০ জনের নামে আসামি করে ঐ রাতেই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ মামলায় থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম, মুকুল ও সেন্টু নামে তিন নেতাকে গ্রেফতার করে বুধবার আদালতে সোপর্দ করে। তবে ঐ তিন আসামিসহ বাকি আসামিরা আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বায়রা আওয়ামী লীগ অফিসে এসে আনারস মার্কার পক্ষে শ্লোগান দেয় এবং ১ নং আসামি আওয়ামী লীগের বিদ্রাহী প্রার্থী মুশফিকুর রহমান খান হান্নান শটগানের বন্দুক দিয়ে উপরদিকে ফায়ার করে। ২ নং আসামি লোহার রড দিয়ে তার পিতাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা ফরিদকেও (৪৫) আঘাত করা হয়। আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বায়রা ইউনিয়ন যুবলীগ সেক্রেটারি সেন্টু মিয়ার মোটর সাইকেলটি। ভাঙচুর করা হয় তিনটি গাড়ি। এদিকে আসামিদের স্বজনেরা জানান, হান্নানসহ ঘটনাস্থলে অনেকেই ছিলেন না। কৌশলগত কারণে নির্বাচনে দমিয়ে রাখার জন্য তাদের নামে মামলা হয়েছে।
