শেষ বিকালে তাইজুল ও নাঈমের ব্যাটিং বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়েছে; কিন্তু তারপরও আফসোসটা রয়ে গেছে। যেমন করে মুমিনুল হক ও সাকিব আল হাসান ব্যাটিং করছিলেন, তাতে তারা চারশ রানের স্বপ্নটা অনায়াসে দেখছিলেন। গতকাল দিনশেষে মুমিনুল বললেন, এটা নিয়ে তাদের যথেষ্ট আক্ষেপ আছে।
এই চারশ রানের পথ থেকে পিছলে যাওয়ার দায়ভার নিজের কাঁধেই নিয়েছেন মুমিনুল। বললেন, ‘ব্যর্থতাটা আসলে আমারই। একটা বাজে শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছি। বাইরের বল ছিল। ছেড়ে দেওয়াই ভাল হতো; কিন্তু খেলতে গিয়ে আউট হয়ে গেলাম। ওই সময়ে এভাবে আউট হওয়াটা ঠিক হয়নি। খেলাটা যেভাবে এগোচ্ছিল প্রথম ইনিংসে আমাদের স্কোর ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারত। আমার কাছে মনে হয় পুরো দোষটা আমারই। আমি যদি ওইভাবে বাজে শট খেলে আউট না হতাম, যদি আরো দুইটা সেশন খেলতে পারতাম তাহলে দিনশেষে আমরা আরো ভাল পজিশনে থাকতাম। হয়তো আর একটা বা দুইটা উইকেট পড়ত। আমি যদি আউট না হতাম তাহলে মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই আর সাকিব ভাইও আউট হতেন না। আমার আউটটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
দ্রুত চার উইকেট পতনের পর শেষের দিকে টেল এন্ডাররা ভাল ব্যাটিং করায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন মুমিনুল। বলেন, ‘চারজন চলে যাওয়ার পর টেল এন্ডাররা যেভাবে ধরে রেখেছেন হয়তো তাদের এই রানের কারণেই আমরা ম্যাচ জিততে পারি। যদি জিতি ইনশাআল্লাহ। শেষের দিকে আমরা মোটামুটি কভার করেছি। দলের যা অবস্থা হয়েছিল সেখান থেকে ওরা দুইজন (তাইজুল ও নাঈম) ভালই কভার করেছে।’
গতকালের সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ আটটি টেস্ট সেঞ্চুরি করে তামিম ইকবালের পাশে দাঁড়ালেন মুমিনুল। এছাড়া এবছর সর্বোচ্চ চারটি টেস্ট সেঞ্চুরি করে ভারতের বিরাট কোহলির পাশে নাম লেখালেন। তবে নিজেকে কোনোভাবেই বিরাট কোহলি বা তামিমের সমকক্ষ বলে মানতে রাজি নন মুমিনুল। বলেন, ‘তামিম ভাইয়ের সাথে আমার তুলনা করার প্রশ্নই আসে না। বিশ্ব ক্রিকেটে তার অবস্থান অন্য একটা লেভেলে। আর বিরাট কোহলিতো আরো ওপরে। এসব নিয়ে আমি চিন্তা করি না।’
ক্যারিয়ারের ৮টি সেঞ্চুরির মধ্যে ছয়টি এসেছে সাগরিকার মাঠে। এটা কি স্পেশাল কোনো ভেন্যু মুমিনুলের জন্য। উত্তরে বললেন, ‘এইরকম কখনো ভাবি না যে চট্টগ্রামে এলে একশ করব। হয়ত আল্লাহর রহমত আছে। এ কারণে ভাল করছি।’ সাগরিকার উইকেট প্রসঙ্গে মুমিনুল বলেন, ‘অন্য উইকেটের তুলনায় এটা স্লো ছিল আর কিছুটা টার্ন ছিল। আগে যখন খেলেছিলাম তখন অনেক ফ্ল্যাট ছিল। ওইরকম স্পিনও হতো না। আর এটাতে বল ঘোরে, নিচে নামে আর দেরি করে ব্যাটে আসে।’
একজন ক্রিকেটারের মধ্যে নিজের পারফর্মেন্স নিয়ে আক্ষেপ থাকাটা স্বাভাবিক বলে মনে করেন মুমিনুল। বলেন, ‘যখন শূন্য করে আউট হই তখন যেমন আক্ষেপ থাকে আবার ১৫০ বা তার বেশি করে আউট হলেও আরেক ধরনের আক্ষেপ তৈরি হয় যে হয়তো ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারতাম। আক্ষেপ যদি না থাকে তাহলে একজন ক্রিকেটার আর আগে বাড়তে পারে না। ওই জায়গাতেই থেমে থাকতে হয়।’
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-১ম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
ইমরুল ক অ্যাম্ব্রিস ব ওয়ারিকান ৪৪ ৮৭ ৫ ০
সৌম্য ক ডওরিচ ব রোচ ০ ২ ০ ০
মুমিনুল ক ডওরিচ ব গ্যাব্রিয়েল ১২০ ১৬৭ ১০ ১
মিঠুন ক ডওরিচ ব বিশু ২০ ৫০ ২ ০
সাকিব ব গ্যাব্রিয়েল ৩৪ ৬৮ ২ ০
মুশফিক এলবিডব্লিউ গ্যাব্রিয়েল ৪ ৩ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ ব গ্যাব্রিয়েল ৩ ৭ ০ ০
মিরাজ ব ওয়ারিকান ২২ ৩১ ৩ ০
নাঈম অপরাজিত ২৪ ৬০ ২ ০
তাইজুল অপরাজিত ৩২ ৫৭ ৩ ১
অতিরিক্ত (বা-৩, লেবা-৫, নো-৪) ১২
মোট : ৮৮ ওভারে ৩১৫/৮
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং:
রোচ ১৫-২-৫৫-১, গ্যাব্রিয়েল ১৮-২-৬৯-৪, চেজ ১১-০-৪২-০, ওয়ারিকান ২১-৬-৬২-২, বিশু ১৫-০-৬০-১, ব্রাথহোয়াইট ৮-১-১৯-০
