অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে আড়াই কোটি টাকা লোপাট

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৬, ০০:০৫
চলতি বছরের শেষভাগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। কিন্তু এর চারমাস আসে জোয়ারের পানির গতিরোধ করতে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে নামসর্বস্ব কাজ দেখিয়ে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে কয়েকহাত ঘুরে অনভিজ্ঞরাই এই বাঁধ নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পানির ধাক্কা থেকে বাঁধ সুরক্ষায় বাঁশ ব্যবহার করলেও তা কাজে আসবে না বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, নোয়াখালীর ফিরোজ আহমদের মালিকানাধীন মোস্তফা এন্ড সন্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কার্যাদেশ পেলেও তারা চট্টগ্রামের মোহাম্মদ এমরান নামের এক ব্যক্তিকে উপ-ঠিকাদার নিয়োগ করেন। এরপর এমরান স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও একজন ইউপি সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে প্রকল্পের কাজ ভাগ করে দিয়েছেন, যাদের এর আগে পাউবো’র ঠিকাদারি কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।  তারা বাঁশ ও মাটি দিয়ে নামসর্বস্ব বাঁধ নির্মাণ করে প্রকল্পের অর্থ হরিলুট করছেন। যে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো পানির ধাক্কায় ভেঙে যাবে। এতে খানখানাবাদ উপকূল আবারো পানিতে ডুববে। অথচ বাঁশের পরিবর্তে গাছের খুঁটি দিলে বাঁধ টেকসই হতো।
 
খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক আবু ইত্তেফাককে বলেন, “বেড়িবাঁধের কাজ চললেও আমি চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুই জানি না।            পাউবো’র দেওয়া টাকাগুলো কাজ না করে খেয়ে ফেলার পাঁয়তারা চলছে। ঠিকাদার হিসেবে কাজটি কে করছে কিছুই জানি না। স্থানীয় কিছু মাস্তান কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। লুটপাট করতেই এ কাজ করা হচ্ছে। এসব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করলো সবার কাজে আসতো। এখন এই টাকাগুলো জলে যাবে।”
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, খানখানাবাদের কদমরসুল অংশে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে শ্রমিকরা। পাঁচটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁধ সুরক্ষায় মাটিতে বাঁশের খুঁটির গাঁথুনি দেওয়া হচ্ছে। যা পানির তীব্র আঘাতে ভেঙে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
 
যদিও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খ.ম জুলফিকার তারেক দাবি করেছেন, বাঁশের খুঁটি দেওয়ার বিষয়টি কাজের শিডিউলে আছে। এ ছাড়া বাঁধের কিছু অংশে জিও ব্যাগ দেওয়া হবে। বাঁধ টেকসই হবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্থায়ী বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হবে।
 
নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত ইউপি সদস্য হাফেজ আহমদ দাবি করেন, তিনি শুধু মাটি দেওয়ার কাজ করছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বদরুদ্দিন চৌধুরী বালি ও বাঁশ সরবরাহ করছেন। কিছু ব্যক্তি নিজেরা কাজ না পেয়ে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি নিজে কাজ ছেড়ে দিতে চাইলেও প্রকল্পের সাব-কন্ট্রাকটর আর কাউকে দিয়ে কাজ করাতে রাজি হচ্ছেন না।
 
জানতে চাইলে সাব-কন্ট্রাকটর এমরান বলেন, “যে যেটা চেয়েছে সবাইকে দিয়েছি। এরপরেও ওরাই মূলত কাজে ঝামেলা লাগিয়ে দিচ্ছে।” নিম্নমানের বাঁশ দিয়ে রিং বাঁধ নির্মাণ করার বিষয়ে তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য যেরকম উন্নতমানের বাঁশ দেওয়া হয়েছে তা বাঁশখালীতেও নেই।”
 

এ ব্যাপারে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।