রংপুরে বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী রুহুল আমিনকে (৪৪) হত্যাচেষ্টা মামলায় জেএমবি’র আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানাসহ ৬ জেএমবি ক্যাডারের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
গত ৩০ জুন ৬ জেএমবি’র ৬ বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। প্রায় ১২ দিন আগে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হলেও মঙ্গলবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই হোসেন আলী চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটভুক্ত জেএমবি’র অন্য ক্যাডাররা হলেন, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইসাহাক আলী, কুড়িগ্রামের রাজারহাটের সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল, আহসান উল্লাহ আনসারী, লালমনিরহাটের বানভাসার মোসাব্বিরুল আলম খন্দকার ওরফে রিপন ওরফে প্রিন্স ও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান। ৬ জেএমবি ক্যাডারের মধ্যে মাসুদ রানা, ইসাহাক, সাদ্দাম, নজরুল ও আহসান উল্লাহ জাপানি নাগরিক কুনিয়ো হোশি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।
বর্তমানে মাসুদ রানা ও ইসাহাক আলী জেল হাজতে এবং অন্যান্যরা পলাতক রয়েছেন।
এসআই হোসেন আলী বলেন, বাহাই সম্প্রদায়ের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী রুহুল আমিনকে জেএমবি’র আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা, ইসাহাক ও মোসাব্বিরুল মোটর সাইকেলে করে এসে ২টি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। একটি গুলি রুহুল আমিনের বুকে ও অন্যটি বাম পায়ে লাগে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তে গ্রেফতারকৃত ৩ জনের জড়িত থাকার কোন তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় চার্জশিটে তাদের আসামি করা হয়নি।
উল্লেখ্য গত বছরের ৮ নভেম্বর সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী ও ও বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিন তার কর্মস্থল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নগরীর আর কে রোডের বাহাই কেন্দ্রের আবাসিক বাড়ি থেকে বের হয়।
এ সময় মোটর সাইকেলযোগে ৩ জনের একদল দুর্বৃত্তদের ২ জন কাছে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে লক্ষ্য করে পরপর ২টি গুলি করে। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। এ ব্যাপারে রুহুল আমিনের স্ত্রী সাইফুন নাহার বাদি হয়ে রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
