দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে :বিমান মন্ত্রী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৬, ০১:২০
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও এভিয়েশন সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
 
রাশেদ খান মেনন বলেন, যাদের দেশে সবসময় খুন-হত্যা-সন্ত্রাস চলছে, তারা এখন আমাদের দেশে এসে নাক গলাচ্ছে। আসলে যে বহিঃশক্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলো, গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় তারা কিছুটা সফল হয়েছে। আর এ দু’টি ঘটনার ফলে আমরা একটু ব্যাকফুটে আছি।
 
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় পণ্যবাহী বিমানের সরাসরি প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড (যুক্তরাজ্য) ও জার্মানির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক। একই কায়দায় জিএসপি বাতিলের সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক।
 
তিনি বলেন, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সাতটি দেশের ডিপ্লোম্যাটদের সঙ্গে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে বৈঠক করবে। সেখানে যাবতীয় শর্ত পূরণের পরও কেন সরাসরি কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হল সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘তাদের জানাব, তোমরা আমাদের আরএ-৩ দিয়েছ। জার্মানির বেসামরিক বিমান সংস্থা লুফথানসা এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারাও এসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। তারপরও তোমরা কেন এটা বন্ধ করে রেখেছ?’
 
প্রসঙ্গত: আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরাপত্তার ঘাটতির কারণ দেখিয়ে জুনের শেষ সপ্তাহে জার্মানি বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে একইভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া।
 
বিমানমন্ত্রী বলেন, শোলাকিয়ার ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এ জন্য এতো সিকিউরিটি নেওয়া হয়েছিল। তাই হামলাকারীরা মাঠের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ভেতরে প্রবেশ করলে আরো অনেকের প্রাণ যেতো। তিনি বলেন, আমাদের সকলের সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের দিকে লক্ষ্য রাখা, যাতে তারা পথভ্রষ্ট না হয়। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী থাকলেও নিজেদের সচেতন থাকতে হবে। আপনার ও পাশের বাড়িতে কি হচ্ছে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। হামলার ঘটনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ুয়া উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানের পাশাপাশি মাদ্রাসার স্টুডেন্টরাও রয়েছে। তারা সংমিশ্রণ করে কাজ করছে। পরিবার তাদের খোঁজ রাখেনি। তাই এখানে সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও চলে আসছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সবার সচেতন হতে হবে। আমাদের আশপাশে কী ঘটছে, কে কী করছে তার ওপর নজর রাখতে হবে।
 

সম্প্রতি সৌদি আরব সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার সময় তাকে বহনকারী ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণের আগে রানওয়েতে ধাতব বস্তু পাওয়ার বিষয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি। ধাতব বস্তুটি ইঞ্জিনের অংশ ছিলো। তিনি বলেন, বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।