শাপলা বেচে জীবিকা নির্বাহ করে পাঁচ শতাধিক পরিবার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৬, ০২:৩২
রাজৈর উপজেলার বাঘিয়ার বিল, লখন্ডার বিল ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও সদর উপজেলার ১০হাজার ৮শ ৯০হেক্টর আয়তনের বৃহত্ জলাভূমি চান্দা বিল। মিঠা পানির এই জলাভূমি শুধু বিভিন্ন প্রজাতির মত্স্য সম্পদেই সমৃদ্ধ নয় একাধিক প্রজাতির জলজ উদ্ভিদেও সমৃদ্ধ যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শাপলা। রাজৈর ও মুকসুদরপুরের ৫শতাধিক পরিবার এই শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
 
প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে চান্দা বিলে পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় অজস্র শাপলারাজি যা থাকে প্রায় অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত। এই সাত মাস বাঘিয়ার বিল ও চান্দা বিল অঞ্চলের ৪৬টি গ্রামের লোকজনসহ গোপালগঞ্জ-মাদারীপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন অন্যতম সবজি হিসেবে শাপলা বেছে নেয়। শাপলা ভাজি, তরকারি, ভর্তা, বড়া হিসেবে খাওয়া যায় বলে এর চাহিদাও অনেক বেশি।
 
শিক্ষিকা আকলিমা খানম মিলন খোন্দকার জানান, স্বাদের দিক থেকে ইলিশ, চিংড়ি এবং বেলে  মাছের সঙ্গে এ শাপলা তরকারির কোন বিকল্প নেই। বর্ষা মৌসুমে চান্দা বিল অঞ্চলের লোকজনের তেমন কোন কাজ না থাকায় এখানকার প্রায় ৫শ পরিবার চান্দা বিল থেকে শাপলা তুলে তা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
 
চান্দা বিল অঞ্চলে ভোরের আলো ফোটার আগেই ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে অসংখ্য নারী-পুরুষ শাপলা আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শাপলা আহরণের পর তা আঁটি বেঁধে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতি আঁটি শাপলা পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হয়।
 
আহরণকারীরা স্থানীয় বাজারগুলোতে শুধু খুচরাই বিক্রি করছে না তাদের কাছ থেকে এক শ্রেণির পাইকারও পর্যাপ্ত শাপলা কিনে নিয়ে পার্শ্ববর্তী টেকেরহাট বন্দরসহ বাগেরহাট, নড়াইল, খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে তা বিক্রি করছে।
 
চান্দা বিল অঞ্চলের সবিতা বিশ্বাস জানান, প্রতিদিন তিনি ও তার স্বামী শাপলা সংগ্রহ করেন এবং তার স্বামী তা জলিরপাড় এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যান। প্রতিদিন ৩শ থেকে ৫শ টাকার শাপলা বিক্রি করেন।