মতলব উত্তর উপজেলার কৃষকরা এখন পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পানিতে নিমজ্জিত রাখা পাটের ঝাঁক থেকে ডাঙ্গায় তুলে আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে। কৃষকরা পাট গাছগুলো পানি থেকে ডাঙ্গায় তুলে দিচ্ছে আর পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর তা পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। এর মধ্যে পাট গাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজটি করছেন কৃষাণীরা।
মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প অঞ্চলে পাটের আবাদ কম হলেও এখানকার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নদীর তীরাঞ্চলেই এর আবাদ বেশি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৪শ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে দেশি ২শ হেক্টর, তোষা ১১০ হেক্টর, মেশতা পাঁচ হেক্টর এবং কেনাফ পাঁচ হেক্টর। তবে বাস্তবে এ মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় পাটের আবাদ আরো বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলার চরকাশিক, বোরচর, চরউমেদ, বাহেরচর, চরওয়েস্টার, মহিষমারী, জয়পুর, এখলাছপুর, ছটাকী, ষাটনল অঞ্চলে এবার পাটের আবাদ তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে। তবে এখানকার ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নির্মাণের আগে এ উপজেলায় প্রচুর পাটের আবাদ হতো। কিন্তু চাহিদা ও সময়ের প্রয়োজনে এখন পাটের চেয়ে ধানের আবাদই বেশি হচ্ছে।
উপজেলার চরকাশিম অঞ্চলের কৃষক জসিম উদ্দিন গাজী জানান, এ উপজেলায় সরকারিভাবে পাট কেনা হলে কৃষকরা দামটা ভালো পেতো। কিন্তু সরকারিভাবে পাট না কেনার কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়েই ফড়িয়াদের ধার্য মূল্যে তাদের কাছে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার আ. কাইয়ূম মজুমদার বলেন, পাটের ফলন ভালো হয়েছে। এখন কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল্য পেলেই আগামীতে পাট চাষে আগ্রহী থাকবে।
