নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের চরকবন্দ গ্রামে নর্থ প্লোট্রি ফার্মের নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে পুলিশ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এসময় ৩ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক।
শুক্রবার বিকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গ্রামবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে- শুক্রবার নজু মামুদের পৈত্রিক জমিতে নর্থ প্লোট্রি ফার্মের প্রাচীর নির্মাণ করার সময় গ্রামবাসীর লোকজন বাধাঁ দেয়। বাধা উপক্ষো করে জোরপূর্বক ফার্মের লোকজন প্রাচীর নির্মাণ করতে চাইলে সেখানে ডিউটিরত পুলিশের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় গ্রামবাসীর ইট পাটকেলের আঘাতে ৩ পুলিশ আহত হয়। পরে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে পাল্টা পাল্টি আক্রমণে গ্রামবাসীর প্রায় অর্ধশতাধিক পুরুষ-মহিলা আহত হয়েছে।
আহতরা হল নীলফামারী পুলিশ লাইনের কনস্টেবল আব্দুল হামিদ, হারুন ও মাহবুব জুয়েল। গ্রামবাসীর মধ্যে আহত হয়েছে কানু বালা,(৫০) অজিফা বেগম (৪৫), আছিয়া বেগম (৪০), ফাতেমা (৫০), নুর বানু (৩৫), হাফিজার রহমান (৫৫)। এছাড়া চাঁদখানা ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্যের স্বামী আবদাল পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে নর্থ প্লোট্রির পরিচালক টিটু মিয়ার মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
চাঁদখানা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. হাফিজার রহমান হাফি জানান- বাধা সত্ত্বেও ফার্মের লোকজন প্রাচীর নির্মাণ করায় গ্রামবাসী ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে।
চাঁদখানা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আইয়ুব আলী জানান- ফার্মের প্রাচীর নির্মাণ কাজে গ্রামবাসী বাধাঁ দিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধেঁ। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গেলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশের গুলিতে আবদাল নামে একজন আহত হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ৫ রাউন্ড গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
