মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় গুরুতর জখম সেই ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। ২ মাস ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত খলিলুর রহমান শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মদনপুর গ্রামের কওছার বিশ্বাসের ছেলে। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে তিনি মেম্বার প্রার্থী আইনাল মজুমদার ওরফে নাজির মজুমদারের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ, গ্রামবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল সকালে শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী মেম্বার প্রার্থী রজব আলী মোল্যা ও পরাজিত মেম্বার প্রার্থী আইনাল মজুমদার ওরফে নাজির মজুমদারের সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেয়া না দেয়া নিয়ে বচসা হয়। এরই এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তখন পুলিশ প্রায় শত রাউন্ড শটগানের গুলি ও বিপুল সংখ্যক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষে শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক খলিলুর রহমান চোখে ট্যাটা বিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঘটনার দিন থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘ ২ মাস ২১ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
এদিকে খলিলুর রহমানের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় জানাজানি হলে তার সমর্থকেরা গত শুক্রবার রাতেই প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।
শ্রীপুর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, যেকোন খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে এখন সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, আজ শনিবার বিকেলের দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে রাতের মধ্যেই মদনপুর সামাজিক করবস্থানে তাকে দাফন করা হবে ।
