পোদ্দারি-কথাটি তিরস্কারের মতো শোনানোর কারণ হলো—পোদ্দার যথার্থই তিরস্কার্য। পোদ্দারি কিংবা পোতদারি কিংবা বন্ধকী মহাজনী এমন একটা মোড়লিপনা যা পরের ধনে করা হয়। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, পোদ্দারি করা হয় অসুবিধাগ্রস্তজনের অথবা বিপদগ্রস্তজনের ধনে। একবাক্যে বলা যায় লাচারের ধনই পোদ্দারের মূলধন এবং গরিবের ধনেই তার গলাকাটা মুনাফাখোরি। [পোতদার হৈল যম, টাকায় আড়াই আনা কম : কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ষোড়শ শতাব্দী]। অতিমাত্রিক কুসীদজীবী এই মহাজনের লেটেস্ট মডেলটির বয়সও পাঁচশো বছরের ওপর। মডেলটি পরিচিত উপনিবেশক বলে, যার চরিত্রটি হলো নিকষিত খল। এ পোদ্দার মহাজনী কারবার করে উপনিবিষ্টের সুদূরবর্তী সম্ভাবনা পর্যন্ত বন্ধক রেখে, যাতে খাতকটি চিরটা কাল মহাজনটির মুখাপেক্ষী থাকে।
এহেন পোদ্দারির সম্পর্কটি স্থাপিত হয় সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে, সংহত হয় আর্থনীতিক শোষণের পদ্ধতিতে এবং চিরায়ত হয় সাংস্কৃতিক দূষণের প্রক্রিয়ায়। অন্য কথায় বলা যায়—উপনিবেশক ও উপনিবেশিত কিংবা উপনিবিষ্টের অসম-অন্যায্য এই সামরিক-রাজনীতিক সম্পর্কটি বিধিবদ্ধ করা হয় আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে, বিশেষত ‘ইনস্টিটিউশনাল স্কুলিং’ বা প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যাপনের মাধ্যমে।
ব্যবস্থাটির ওপর অর্পিত দায়িত্ব যেহেতু সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধের, তথা কায়েমী স্বার্থের, পুরুষানুক্রমিক অবিকল হস্তান্তরণ—সেহেতু আনুষ্ঠানিক এই অধ্যাপন প্রকৃতপক্ষে হয়ে দাঁড়ায় অধ্যাসন। অর্থাত্ পূর্ববর্তী প্রজন্মের তাবত্ গুণাগুণ পরবর্তী প্রজন্মের ওপর হুবহু আরোপ করা, এক বস্তুকে অন্য বস্তু কল্পনার ছলে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এ এক প্রাতিষ্ঠানিক প্রতারণা। কারণ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত এই বিদ্যা অসঙ্গতকে সঙ্গত—এমনকি অন্যায্যকে ন্যায্য বলে প্রতিপন্ন করে। এইভাবে সাংস্কৃতিক উপনিবেশন সুবিধাভোগীকে প্রাপ্ত সুবিধাটা ন্যায্যতই তার প্রাপ্য বলে বোধ করাতে থাকে এবং প্রাপ্তিটি ঘটিয়ে দিয়ে তাকে অন্যায়ভাবে সুখী করে রাখে। প্রতিপক্ষে, অসুবিধাগ্রস্তের মনে অসুবিধাটাকে ন্যায্যতই গ্রাহ্য বলে বোধ করাতে থাকে এবং অগ্রাহ্য বোধ না করার কারণে সেও শান্ত থাকাকে তার নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করে। অর্থাত্ সুবিধাপ্রাপ্তিটি ঘটিয়ে না-দিয়েও উপনিবিষ্টকে মিছেমিছি সুখী করে রাখে প্রতারক উপনিবেশক। সুবিধাভোগী এবং অসুবিধাগ্রস্তকে যুগপত্ নিশ্চুপ করে রাখার মাধ্যমে সমাজের তথাকথিত শান্তিশৃঙ্খলাবিধান দৃশ্যমান করে তুলতে পারে বলেই উপনিবেশকের এই সংস্কৃতিকে পাওলো ফ্রেইরি বলেন ‘খামুশির সংস্কৃতি’—যে-সংস্কৃতিতে দেখা যায় বাঘে আর গরুতে এক ঘাটে জল খায় চুপচাপ। যুক্তিহীনকে যুক্তিপূর্ণ প্রতিপন্ন করার বশীকরণবত্ মন্ত্রপূত পন্থায় আগ্রাসী ও আক্রান্ত—এই মেরু-বিপরীত দুটি পক্ষের জন্যেও সমান নিশ্চুপকর সংস্কৃতিটিকে সম্মোহনী সংস্কৃতিও বলা যায় কি?
সামরিক উপনিবেশ যখন আর্থনীতিক উপনিবেশের স্তর পেরিয়ে সাংস্কৃতিক উপনিবেশের অভিধা পায়, তখন ওটা একটা হাইড্রা-হেডেড মন্স্টার বা বহুফণাবিশিষ্ট সর্প হয়ে দাঁড়ায়। উপনিবেশবাদ রচিত সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ সে-পর্যায়ে হয়ে যায় অনিঃশেষ বিশেষণের এক ধূম্রজালিক বিষয়বস্তু। তাই এখানে আমি কেবল একটিমাত্র ভ্রান্ত ধারণার কথাই বলব যেটির ওপর অন্যায়ের পিরামিডবত্ এই রাজপ্রাসাদটি দাঁড়িয়ে আছে বেশ আয়েশেই।
কলোনিবাদী সমাজে সযত্নে কর্ষিত ও প্রচারিত সবচেয়ে উত্যক্তকর ভ্রান্তধারণাটি হলো—কলোনিকরের স্বদেশে এবং উপনিবেশে সমাজটির শিক্ষাদাত্রী প্রতিষ্ঠানে নাকি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার সমতাবিধান মারফত সমাজ-রূপান্তরণের পাঠক্রম প্রবর্তিত হয়েছে। তথ্যটা নগণ্য শহুরে গরিব এবং নগণ্যতর গ্রামীণ দরিদ্রের ক্ষেত্রে নগণ্যতম অর্থেই কেবল সত্য বলে গণ্য হতে পারে। সেক্ষেত্রেও স্মর্তব্য যে তথাকথিত ওই গণকল্যাণসাধনটুকুও অ-পরিহার্য পার্শ্বোত্পাদবিশেষ। স্কুলিং কিংবা অধ্যাপনের মূলোত্পাদ হলো—স্কুলবয়সী সকল নাগরিককে এক ছাদের তলে নিয়ে এসে অনুমোদিত শিক্ষাদানের প্রক্রিয়ায় যার যার পূর্বনির্ধারিত ভূমিকাবণ্টনসহ গোটা আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক-রাজনীতিক কাঠামোটিকে সুকৌশলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অবিকলরূপে পাচার করে দেওয়া।
এই অধ্যাপন-প্রতিষ্ঠানটির জন্ম হয়েছে সনাতন সমাজকাঠামো ভাঙার কালে, সাম্রাজ্যবাদের কেন্দ্রীয় ভূভাগে। এ-প্রতিষ্ঠান জনসাধারণকে সমাজের সনাতন শ্রেণিবিন্যাস থেকে বের করে নিয়েছে ঠিকই। তবে সে শুধু তাদের, যথাক্রমে, বণিকতন্ত্রী ও পুঁজিতন্ত্রী স্তরবিন্যাসের অঙ্গীভূত করে নেবার অভিসন্ধিমূলক গরজেই। এই প্রক্রিয়ায় আত্মমোচনের কিছু উপাদান আছে সত্য, তবে ঢের বেশি আছে স্ব-বিচ্ছিন্নতার উপকরণ। পুঁজিতন্ত্রী সমাজের নতুন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ স্বমোচন এবং স্বমুক্তির পরিণতিস্বরূপ স্বকীয় সংজ্ঞা নিরূপণের পূর্ণ সুযোগ নেই। বরং ওসবের মাত্রা ওখানে গুটিকতক মাথা-মোড়ল দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত, যারা সমাজের সার্বিক আদর্শ এবং লক্ষ্যগুলিও নির্ধারণ করে দিয়ে থাকে। একচ্ছত্র কর্তৃত্ববাদী এবং সর্বৈব সুবিধাভোগী এই কতিপয় কারা?
আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজগুলি প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এক বা একাধিক জাতির গুটিকতক বিদেশি দ্বারা, বা বিশেষ এক শ্রেণির দেশি দ্বারা বা গোষ্ঠী-দুটির অশুভ একটি আঁতাত দ্বারা—যারা সংস্কৃতির প্রকৃতি বিচারে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিভূ তো নয়ই বরং তাদের সরাসরি প্রতিপক্ষ। এক কথায় বলা যায় সামন্ততান্ত্রিক সমাজের কৃষক-কারিগরের সন্তানগণ পুঁজিতান্ত্রিক সমাজের বেতনভুক্ শ্রমজীবী হয়ে বড়জোর রুজি-পণ্য কিছু বেশি কামায়, তবে এর পরিবর্তে নিজেদের সময় এবং সামাজিক সম্পর্কসমূহের ওপর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ হারায়। অন্যকথায়, তথাকথিত ‘রূপান্তরিত’ সমাজের ‘মুক্তকৃত’ এইসব জনগণ পরনিয়ন্ত্রিত শ্রম বিক্রি আর পরনির্ধারিত পারস্পরিক অবস্থিতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এমনকি যারা এভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকৃত হয় না বা হয়ে ওঠে না— তাদেরকেও পরিমাপিত হতে হয় অধ্যাপন-প্রতিষ্ঠানটির মাপকাঠিতেই। খোলাকথায় তাদের পড়ে থাকতে হয় সমাজের একেবারে বর্জিত তলাশ্রয়ী হয়ে, ‘আনস্কুল্ড’-লেবেল সেঁটে চিহ্নিত বা ‘অনধ্যাপিত’-মার্কা মেরে বাতিল-করা বলে।
আলোচনাধীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ যে-সমাজের প্রতিরূপ সৃষ্টি করে, সে-সমাজের বিশিষ্ট স্তরবিন্যাসটির চরিত্রগত কারণেই এ-অধ্যাপন সকলের জন্য সার্বিকভাবে সমান মানে এবং গুণে প্রাপ্তব্য নয়। কারণ আন্ডারচরের অধ্যাপন আর ঢাকাশহরের অধ্যাপন সমান নয়। পূর্ণভোজী একজনের শিক্ষিত স্বজনগণের মূল্যসংযোজন ও আক্রা দামে ক্রয়-করা আট-দশ জন টিউটরের শ্রমের সমর্থনপুষ্ট অধ্যয়ন এবং ঊনভোজী অপরজনের পরিবারে কিংবা সমাজে বিনিয়োজিত আট-দশ ঘণ্টা শ্রমের বিয়োজনক্লিষ্ট অধ্যয়নও অসমানই হয়। এর অন্তর্নিহিত অর্থ :বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের মান, পরিমাণ এবং ধরন—সবই ব্যবহূত হয় জায়মান সমাজব্যবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণির ওপর আরোপিত স্তরবিন্যস্ত ভূমিকা মোতাবেক। এর গুহ্য উদ্দেশ্য : ভূমিকাগুলির ‘অবিকল্পরূপে’ সংরক্ষণ এবং চলতি প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ হস্তান্তরণের ‘নৈতিক দায়িত্ব’ সমাপন।
অতএব সহজেই বোধগম্য যে সামন্ততন্ত্র থেকে পুঁজিতন্ত্রে উত্তীর্ণ হবার পর পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সমাজ-রূপান্তরণের নিমিত্ত হিসাবে স্কুলিং কিংবা শিক্ষণের ভূমিকা হয়ে পড়ে গৌণ থেকে গৌণতর। প্রতিপক্ষে ভূমিকাটা মুখ্য থেকে মুখ্যতর হয়ে ওঠে বিদ্যমান সমাজের গ্রন্থন সংরক্ষণের মোক্ষম মাধ্যম হিসাবে। লক্ষণীয় যে
সংরক্ষণাধীন বিন্যাসটিতে জনসাধারণকে কাঠামোগতভাবেই সামাজিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যা এবং রাষ্ট্রিক পরিসেবার সমান সুবিধা লাভ থেকে বঞ্চিত রাখা আছে। উপরন্তু সুবিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সমাজের দিক-নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক বিষয়টির এলাকা থেকে তাদের, অযোগ্য-অনধিকারী হিসাবে, নির্বাসন দেওয়া আছে অলঙ্ঘ্য দূরত্বে। যে-সুবিধাভোগী সংখ্যালঘু অসুবিধাগ্রস্ত সংখ্যাগুরুকে এই কাঠামোগত গেঁড়াকলে ফেলেছে, সে-কায়েমীস্বার্থের ধ্বজাধারীরা এহেন সমাজব্যবস্থাকে ‘উদারনৈতিক’ বলে ফেরি করে। [সামন্তবাদী ব্যবস্থার তুলনায় উদারনৈতিক মনে হলেও আসলে সাম্যবাদী ব্যবস্থার তুলনায়, ‘উদারনৈতিক’ তো নয়ই, ‘কঠোরনৈতিক’ও নয়, বলতে হবে ‘দমননৈতিক’]।
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে রাষ্ট্রপরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষণের উজ্জ্বলতম গুণস্বরূপ ব্যাপকভাবে প্রচারিত ‘রূপান্তকারী’ শিক্ষণ-বস্তুটির সীমা পুঁজিতন্ত্রী সমাজের সমাজপতি কোটারি কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত এবং সুকৌশলে প্রয়োজিত ও হস্তান্তরিত। বস্তুতপক্ষে রাষ্ট্রীয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি উদ্ভাবিত ও নিয়োজিত হয়েছে সমাজপতি কোটারিটির সার্বিক প্রয়োজন মেটানোর গরজে। এ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ভোগ্যপণ্য ও বিনিময়পণ্য উত্পাদনের সহায়ক শিক্ষাপ্রাপ্ত শ্রমশক্তি জোগায় এবং এই প্রক্রিয়ায় আমজনতা আর খাসজনতার মধ্যস্থ, পুঁজিবাদীর কায়েমীস্বার্থ সংরক্ষক, সিবিএ-নামের বর্ণচোরা একটা দালাল দলও জোটায়।
অন্যকথায় বলা যায় :এককালের যাজকশাসিত সমাজের ‘ধর্মে’র এবং আরেক কালের সামন্তশাসিত সমাজের ‘রক্তে’র—দুটি ভূমিকাই একালের পুঁজিশাসিত সমাজে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে। কারণ, এ-সর্বজনমান্য প্রতিষ্ঠান নৈতিক ধূম্রজালের আড়ালে এবং সর্বজনগ্রাহ্যতার অন্তরালে শ্রেণিবিভাজিত সমাজের অসম সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভূমিকাগুলি পালনের জন্য ব্যক্তি নির্বাচনের জনগুরুত্বসম্পন্ন কার্যটি করে থাকে। ‘নৈর্ব্যক্তিক’ এই বাছাইকর্মটা এমন সুনিপুণ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়, যাতে ব্যক্তিবিশেষের ভালোমন্দের জন্য এককভাবে তাকেই দায়ী করা চলে—সামাজিক ন্যায়বিচারের দায়ভাগটা প্রথাগতভাবে বর্জন ক’রে।
ব্যক্তিদায়টা প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্যক্তিবিশেষের উপলব্ধির গভীরে এই ফ্যালাসিধর্মী স্বস্তিবোধটুকু বপন করে দিয়ে যে, তাকে তো তার আপন জীবনটি নির্মাণের এবং নিজের অস্তিত্বের সংজ্ঞাটি নিরূপণের এক্তিয়ারটুকু পুরোপুরিই দেওয়া হয়েছে। কী ভাবে? তার সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে। অতএব তুলনামূলকভাবে অসন্তোষজনক ভূমিকাটি পেয়ে থাকলেও তার সন্তুষ্ট থাকাই উচিত, যেহেতু ওইটুকুই তার মুরোদে কুলিয়েছে। অর্থাত্ বিদ্যমান এই ‘লিবারেল’ ও ‘র্যাশনাল’ তথা উদার ও যুক্তিসঙ্গত সমাজটার সৌন্দর্য-শৃঙ্খলা রক্ষা করে তার ‘উদারনৈতিক’ কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে যার যার সম্ভবশ্রেষ্ঠ অবদান রেখে যাওয়াই তো তার তার ব্যক্তিক, সামাজিক, মানবিক, নাগরিক, ধার্মিক, জাতিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।
এই প্রক্রিয়ায় যা ঘটানো হলো এবং চিরস্থায়ী করা হলো, তার সারসংক্ষেপস্বরূপ পাওয়া গেল—কতিপয়ের উন্নয়ন ও সমুদয়ের অবনয়ন। পদ্ধতিটি সমুদয়কে, পাওলো ফ্রেইরির ভাষায়, ‘বিং ফর অ্যানাদার’ অর্থাত্ অন্যের বদলি-প্রাণীতে পরিণত করল এবং পর্যবসিত করল সেই ছায়াজীবী প্রাণীতে, যে তার জীবনটি নির্মাণ করে কেবল অন্যের খায়েশ মেটাতে। সে-অন্য হলো, মার্কাস রাসিকনের পরিভাষায়, সুপিরিয়র ‘হায়ারার্কিক আদার’ অর্থাত্ উপরিক ‘শ্রেণিক্রমিক অন্য’। এটিই কিন্তু সাংস্কৃতিক উপনিবেশনের ভিতরের কথাটি। প্রসঙ্গত স্মর্তব্য যে—দেশের বা জাতির কলোনিকরণ নয়, ব্যক্তিবিশেষের এই কালচারাল-কলোনাইজেশনই সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ নামক প্রতিষ্ঠানটির ‘সেন্ট্রাল বিল্ডিং ব্লক’ কিংবা প্রধান নির্মাণসামগ্রী।
‘সাংস্কৃতিক’-কথাটির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হবে পলকবিহীন। কারণ সভ্যতা-সংস্কার-অনুশীলন-পরিশীলন-শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে লব্ধ মানুষের বিদ্যা-বুদ্ধি-শিক্ষা-দীক্ষা-রীতি-নীতি-আচার-আচরণ-রুচি-অভিরুচি—সবকিছুর সংশ্লেষেই সৃষ্টি হয় সংস্কৃতির। এই আলখেল্লাটার অঙ্গীভূত উপকরণসমূহের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অঙ্গনটিই প্রধানতম এবং উপনিবেশনের জন্যেও উর্বরতম ক্ষেত্রস্বরূপ। সমাজ ও রাষ্ট্রের অনুমোদনপুষ্ট এই শিক্ষা-প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উপনিবেশন-নামক বিষবৃক্ষের বিষাক্ত ফলটি চলতি প্রজন্মের গর্ভে থাকতেই পরবর্তী প্রজন্মকে অজান্তে খাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাটা সম্পন্ন করে ফেলা হয়।
এই পর্যায়ে স্মর্তব্য যে কলোনাইজেশন বা উপনিবেশনই মানবিক মূল্যবোধের মৌলিক বিপর্যয়ের একেবারে গোড়ার কারণটি। এই কারণেই সাম্রাজ্যবাদ নির্ভরশীল উপনিবেশবাদের ওপর, কিন্তু উপনিবেশবাদ নির্ভরশীল নয় সাম্রাজ্যবাদের ওপর। বিষয়টিকে খতিয়ে দেখতে হলে আরেকটু খুলে বলতে হয়। সাম্রাজ্যবাদের ব্যবচ্ছেদ-প্রক্রিয়ায় উপনিবেশবাদের যে-মৌলিকরূপটি উদ্ঘাটিত হয়, সেটি মোদ্দাকথায় মানববিকাশের চরমতম প্রতিবন্ধীরূপ। কারণ অন্তিম বিশ্লেষণে দেখা যায় যে উপনিবেশবাদ দুটি দেশের মধ্যকার সামরিক দখলদারির সম্পর্কমাত্র নয়, দুটি জাতির মধ্যকার রাজনীতিক খবরদারির সম্পর্কমাত্র নয়, দুটি জনগোষ্ঠীর মধ্যকার আর্থনীতিক আড়তদারির সম্পর্কমাত্র নয়, দুটি শ্রেণির মধ্যকার সামাজিক মাতব্বরির সম্পর্কমাত্র নয়—উপনিবেশবাদ বস্তুত দুটি ব্যক্তির মধ্যকার সাংস্কৃতিক পোদ্দারির সম্পর্ক, যে সম্পর্কের কারণে উপনিবিষ্টজন তার নিজস্ব সংজ্ঞাটি পর্যন্ত বিস্মৃত হয়ে যায় এবং উপনিবেশকজন কর্তৃক আরোপিত সংজ্ঞাটিকেই তার নিজের জ্ঞান করে পরের জীবনটি যাপন করে যায় অনবধানে।
স্ব-বিয়োজনের মাধ্যমে উপনিবিষ্টজনের এই পরকীকরণই, ‘বিং ফর অ্যানাদার’ হওন। ‘অন্যের বদলি’ হয়ে যাওয়া এই মনুষ্যটি ‘আপনার’ ভ্রমে ‘পরের’ জীবনটি যাপন করে যায়—যে জীবনটি আসলে ‘হায়ারার্কিক আদার’ বা ‘স্তরিত উপরিকে’র। আরো খোলাকথায়, উপনিবেশক-কবলিত উপনিবিষ্টজন তার তথাকথিত আপন জীবনটি নির্মাণই করে অপরের জীবনটি পরিপূরণের নিমিত্তরূপে, নিজের সহজাত সম্ভাবনাগুলি রূপায়ণের বিত্তরূপে নয়।
এ জন্যই উপনিবেশন মানবসমাজের ভয়ংকরতম ব্যাধি হিসেবে গণ্য। কারণ ব্যাধিটি প্রাকৃতিক, আকস্মিক কিংবা আপতিক নয়—সমাজের শক্তিকেন্দ্র কর্তৃক শীতল মস্তিষ্কে পরিকল্পিত, প্রয়োজিত, সংক্রমিত ও সম্প্রসারিত। এর মধ্যে আবার সাংস্কৃতিক উপনিবেশন সবচেয়ে বেশি বিনাশী শক্তিধর, যেহেতু এর বাস্তবায়ন দূরনিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াতেই সম্ভব। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োগনির্ভর নয় এই উপনিবেশনের রূপায়ণ। তাই সাম্রাজ্যবাদী জাতির ভিতরেই এর প্রাথমিক লালন পালন সাধন হয়। সেখানে সাংস্কৃতিকভাবে উপনিবিষ্ট করে থাকে কালোকে সাদা, নারীকে পুরুষ, নাবালককে সাবালক, সাধারণকে বিশেষ। এমনকি, তাদের জ্ঞান-ধ্যান, চিন্তা-চেতনা, রুচি-অভিরুচিও নানাবিধ ফন্দিফিকিরের প্রক্রিয়ায় উপনিবিষ্ট হয়ে থাকে। এভাবে স্বদেশের প্রান্তীয় সমুদয়কে উপনিবেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কতিপয়ের জন্য ‘বিং ফর অ্যানাদার’ করে ফেলা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় আত্মসচেতন মানবজীবনধারী ম্যাজরিটিকে আত্ম-অচেতন গোজীবনধারী বানিয়ে নিয়ে স্বদেশের কেন্দ্রী কোটারি পরদেশে উপনিবেশ ও সাম্রাজ্য স্থাপন ক’রে তাদের তাবত্ সম্পদ লুটে চলে। লুটেরা কোটারিটি তার উপনিবিষ্ট স্বদেশবাসীকে লুণ্ঠিত পরদেশবাসীর ধনের ক্রমবর্ধিষ্ণু কোটার বখরা দিয়ে তাদের চক্রবৃদ্ধি হারে তুষ্ট করে রাখতে পারে। ফলে সাম্রাজ্যবাদী দেশের শিক্ষিতসমাজও অন্যের অহিংস দেশকে সহিংস হয়ে দখল এবং প্রতারণা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত অন্তর্ঘাত সন্ত্রাসের ঘৃণ্য থেকে ঘৃণ্যতর পন্থায় অন্যের প্রাকৃতিক সম্পদ হরণকে সমর্থন করার মাধ্যমে তাদের কেন্দ্রী কোটারির সাম্রাজ্যবাদী অসচ্চারিত্র্যটিকে সংরক্ষণ করে চলে। উদাহরণ—ইরাক-লুণ্ঠক জর্জ বুশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরূপে মার্কিন ভোটারদের পুনরায় নির্বাচন।
এ জন্যই কোনো সাফাইকারী-ব্যাখ্যা বা কোনো লেফাফাদোরস্তকর-ভাষ্যের ছলাকলাতেই কেউ যেন না-ভোলে যে সাম্রাজ্যবাদ সর্বদাই উপনিবেশবাদের ওপর নির্ভরশীল এবং রাষ্ট্রশক্তির কেন্দ্রী কোটারি উপনিবেশন-কর্মটি শুরুও করে নিজের দেশের অভ্যন্তর থেকেই। কেননা উপনিবিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্বভাবতই হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড কিংবা নৃশংস ক্রিয়াকলাপ কেউই সমর্থন করবে না, কি স্বদেশে কি বিদেশে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও উপনিবিষ্ট বলেই, মানবসভ্যতার আদি জন্মভূমির ওপর বর্বর আক্রমণকারী, অমূল্য ঐতিহ্যবাহী দেশটির অতুলনীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ধ্বংসকারী, অপরিমেয় প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনকারী এবং, সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক বিশ্বনিন্দিত এবং বিশ্বজনগণধিক্কৃত একটা সরকারের প্রতি মার্কিন ভোটারদের পূর্ণ সমর্থন বছরের পর বছর বহাল থেকেছে।
প্রদীপের অন্ধকারাচ্ছন্ন তলার মতো, ব্যক্তিস্বাধীনতার মশালবাহী মার্কিন সরকারের পায়ের তলার দেশটিও অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাই গভীর পর্যবেক্ষণ ছাড়া দেখা যায় না যে ‘গণতন্ত্র’গর্বী যুক্তরাষ্ট্রও কতিপয় কর্তৃক শাসিত হয়, কতিপয়েরই জন্য। দেশটির ম্যাজরিটি বা অধিজন হলো ‘বিং ফর অ্যানাদার’, যারা তাদের জীবনগুলি যাপন করে ‘ফর হায়ারার্কিক আদার’। ফলে সেখানকার কমনম্যান ভাবে, করে, হাসে, কাঁদে, বাঁচে মরে—আত্মোপলব্ধ উত্তমপুরুষটির জন্য নয়—তার শিরাসীন তৃতীয়পুরুষটির দুষ্ট উপলব্ধিজনিত তুষ্টি-ফুর্তির জন্য। নির্জ্ঞানস্তরের আচ্ছন্নতায় আক্রান্ত এইসব সংজ্ঞাহারা সাবেক-মনুষ্যের দঙ্গল, নিজের চেতনালোকিত জীবনের নয়, অপরের কামনালোকিত জীবনটির যাপনকেই অজান্তে আপন ‘জীবনযাপন’ভ্রমে নিজের জীবনের পরিসরেই আপন ‘মরণযাপন’ করে চলে। এটা ঘটে থাকে, তাদের কেন্দ্রীয়-কতিপয় কর্তৃক প্রান্তীয়-সমুদয় উপনিবেশিত বলেই।
মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী মার্কাস রাসিকন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশক কাঠামে চারটি সক্রিয় উপনিবেশ লক্ষ করেছেন। প্রথমটি হলো ‘ভায়োলেন্স কলোনি’। এই হিংসন-উপনিবেশটি হলো জাতীয়নিরাপত্তাসর্বস্ব রাষ্ট্রের মিলিটারি-পুলিশের সশস্ত্র মহল। পিরামিড-শিরাসীন সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্রী-কতিপয়ের শ্রেণিস্বার্থ শিকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই উপনিবেশ সমগ্র সমাজকে অযৌক্তিক, এমনকি অবৈধ যুদ্ধেও জড়িয়ে ফেলতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো ‘প্লান্টেশন কলোনি’। এই সৃজন-উপনিবেশটি হলো পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের উত্পাদন প্রকোষ্ঠ, যেখানে ঘটে আরেক অমানবিক কাণ্ড। অধিকতর মুনাফাপ্রদায়ী যন্ত্র কর্তৃক ‘অ-নির্মাতা’ করে-ফেলা শ্রমিকটিকেও, তার প্রাক্তন-মুনিব, পুঁজিবাদী উত্পাদকের দরকার অন্য ভূমিকায়—যন্ত্র কর্তৃক উত্পাদিত পণ্যটির ‘ক্রেতা’ হিসাবে। কাজেই এই উপনিবেশও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার গরজে হিংসন-উপনিবেশের ওপর নির্ভরশীল। কারণ ‘জাতীয় নিরাপত্তা সরকারে’র অন্যতম অভীষ্ট লক্ষ্যরূপী সামরিক চুক্তিগুলি শ্রমিক-নিযুক্তির গতি বাড়ায় এবং শ্রমশক্তির বেকারত্ব কমায়, তথা ভোক্তা সমাজের ক্রয়শক্তি বাড়ায়। তাহলে দেখা যায় : যুক্তরাষ্ট্রের ভায়োলেন্স ও প্লান্টেশন অর্থাত্ হিংসন ও সৃজন-নামক উপনিবেশ দুটি প্রকৃতিগতভাবেই সাম্রাজ্যবাদী এবং পরস্পরের শক্তিবর্ধক।
তৃতীয়টি হলো ‘চ্যানেলিং-কলোনি’। এই সংক্রমণ-উপনিবেশটি হলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ-নামক অমানবিক প্রতিষ্ঠানটিকে তার অবিচ্ছেদ্য উপাদান উপনিবেশবাদসহ, প্রশ্নাতীত প্রক্রিয়ায় এবং মর্যাদাসম্পন্ন কায়দায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তর করা হয়। লক্ষণীয় যে সংক্রমণ-উপনিবেশ বর্ণচোরা বলেই সবচেয়ে বেশি খতরনাক। চতুর্থটি হলো ‘ড্রিম কলোনি’। এই সম্মোহন-উপনিবেশটি হলো গণসম্প্রচার মাধ্যম। এটি জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাসর্বস্ব রাষ্ট্র ও তার কোটারির স্বার্থ সংরক্ষণের সর্বাধুনিক ও সর্বশক্তিমান অবলম্বন। ‘ডিস্-ইনফর্মেশন’ ও ‘মিস্-ইনফর্মেশন’ অর্থাত্ অ-তথ্য ও অসত্য তথ্যকে মূলধন করে প্রচার-বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই গণমাধ্যম-নামক উপনিবেশটি উপনিবিষ্টের স্বকীয় বোধ-উপলব্ধি সকলই হরণ করে নেয় এবং তার মগজের খাঁজে খাঁজে আরোপ করে দেয় সকল অনুভব-অভিভবেরই যত সব অলীক-অসার বিকল্প। [মার্কাস রাসকিন, বিং অ্যান্ড ডুয়িং, র্যান্ডম হাউস, নিউ ইয়র্ক, ১৯৭১]।
বর্ণিত পরিপ্রেক্ষিতে ‘আমাদের বিরোধ শুধু সাম্রাজ্যবাদী দেশের সরকারের সঙ্গে, সে দেশের জনগণের সঙ্গে নয়’— এই বহুল ব্যবহূত ক্লিশেটি আর যেন ব্যবহূত না হয়। বরং মিথ্যেটিকে যেন নর্দমাতেই নিক্ষেপ করা হয়। কারণ কি সামরিক, কি রাজনীতিক, কি আর্থনীতিক, কি সাংস্কৃতিক—সাম্রাজ্যবাদী কোটারি কর্তৃক উপনিবিষ্ট পর-জনগণের শোষণে-পীড়নে, তার স্ব-জনগণের অন্ধ অংশগ্রহণই হলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্ব-রক্ষণের প্রধান উপকরণ। এই উপকরণটি যাতে বেহাত না হয় তার জন্য স্বজনগণকেও উপনিবিষ্ট রাখতে হয় সাম্রাজ্যবাদীর। সেটা রাখা হয় সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের মিসইনফরমেশন-ডিসইনফরমেশন সংবলিত লাগাতার অপপ্রচার এবং এন্তার ফেরেববাজির মাধ্যমে। এভাবে দেখা যাবে যে সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক উপনিবিষ্ট কেবল গ্লোবাল পেরিফেরাল কান্ট্রিগুলিই নয়, গ্লোবাল সেন্ট্রাল কান্ট্রি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সমানে উপনিবিষ্ট। অবশ্যম্ভাবী এ-বিকারটি সাম্রাজ্যবাদনামী ব্যাধিরই।
অতএব সংজ্ঞামতেই একটি সাম্রাজ্যবাদী দেশ তার সরকার ও জনগণসহ সমান নষ্ট ও যুগপত্ রুগ্ন। সুতরাং সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্রী দেশটি বিশ্বের নষ্টতম ও রুগ্নতম দেশ। কাজেকাজেই এহেন পোদ্দার সরকার ও তার সমর্থক জনগণ থেকে পারতপক্ষে সকলেরই নিরাপদ দূরত্বে থাকা প্রয়োজন।
