ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দিবসের উত্সবে জড়ো হওয়া জনতার ওপর দ্রুত গতিতে ট্রাক ছুটিয়ে চালানো হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহতা উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর একজন স্থানীয় এক পত্রিকার সাংবাদিক ডেমিয়েন আলেমান্দ। তিনি বলেন, ‘সেকেন্ডের অনেক কম সময়ের মধ্যেই দেখতে পাই, বিশাল সাদা রঙের একটি ট্রাক উন্মাদের মতো ছুটছে; যাতে অনেক বেশি মানুষকে চাকার নীচে পিষে মেরে ফেলা যায়। ট্রাকটি যেখান দিয়ে যাচ্ছিল সেখান দিয়েই ছিটকে পড়ছিল মানুষ। যে শব্দ আর কান্না আমি শুনেছি তা কখনো ভুলব না।’
নিসের স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াসিম বোলেল জনতার ওপর দিয়ে ট্রাকটি চলে যাওয়ার ঘটনা দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘রাস্তায় যেন গণহত্যা চালানো হয়েছে। সব জায়গায়াই পড়ে ছিল লাশ আর লাশ।’ ওই চালক কীভাবে ট্রাকটি থেকে নেমে গুলি চালানো শুরু করেন সে কথাও জানান তিনি।
কাছের একটি হোটেল থেকে মর্মান্তিক ওই ঘটনা দেখতে পাওয়ার কথা জানান ব্রিটিশ পর্যটক কেভিন হ্যারিস। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড চিত্কার ও কান্নাকাটির শব্দে বারান্দায় গিয়ে দেখি, রাস্তায় পড়ে আছে অসংখ্য লাশ। খুবই ভয়ানক দৃশ্য।’ আতশবাজি উত্সব দেখতে যাওয়া কেলা রিপন নামের যুক্তরাষ্ট্রের এক পর্যটককে উদ্ধৃত করে বিবিসি লিখেছে, ‘পুরো শহরই আতঙ্কে পালাচ্ছিল।’ জোয়েল ফেনস্টার নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল এবং আমরা হেঁটে বেড়াচ্ছিলাম। হঠাত্ মানুষ দৌড়াতে শুরু করল। মানুষ চিত্কার করছিল, পুলিশের সাইরেন বাজছিল এবং পুলিশ সবাইকে নিরাপদে সরে যেতে বলছিল। আমরা শুধু কিছু গুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম এবং লোকজনকে অস্ত্র নিয়ে দৌড়াতে দেখছিলাম। এক পর্যায়ে আমরাও দৌড়াতে শুরু করলাম এবং দেখতে পেলাম লোকজন আমাদের দিকে ছুটে আসছে।’
ফ্যানি নামের ২০ বছর বয়সী এক নারী রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সবাই অনেক আনন্দ করছিলাম। সারারাতই উত্সব করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। আতশবাজির পর হাঁটা শুরু করতেই দেখি পথচারীদের এলাকায় খুব দ্রুত গতির একটি ট্রাক এলোপাথাড়িভাবে ছুটছে।
প্রথমে মনে হচ্ছিল, ট্রাকটি হয়তো বুঝতে পারেনি যে উত্সব উপলক্ষে রাস্তাটি পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর রাস্তার ওপর লোকজনকে ছিটকে পড়তে দেখে বুঝতে পারি, এটা সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে।
