মায়াবতীকে নিয়ে বিদ্রূপ মন্তব্যে ভারতের পার্লামেন্টে তোলপাড়

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৬, ১৬:২৩
ভারতীয় সমাজবাদী পার্টির (বিএসপি) নেত্রী মায়াবতীকে ‘যৌনকর্মীরও অধম’ বলে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি করলেন উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সহ-সভাপতি দয়াশঙ্কর সিংহ। বিধানসভা ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে যে রাজ্যে, সেখানে দয়াশঙ্করের এই মন্তব্যে বিজেপিকে ঘোর বিপাকে ফেলে দিল। বিতর্কের ধাক্কা সামলাতে দয়াশঙ্কর সিংহকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তবে তাতে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়নি মোটেই।—খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার
 
বিজেপি নেতার ওই মন্তব্যে বিচার চেয়ে গতকাল বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। পরে পার্লামেন্টে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি। তিনি বলেন, একজন বিজেপি নেতার এই মন্তব্যে ব্যক্তিগতভাবে ভীষণই আঘাত পেয়েছি। এই আচরণের জন্য মায়াবতীর কাছে দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি। আমরা তার পাশে রয়েছি। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি প্রধান কেশব মৌর্যও এই মন্তব্যের জন্য মায়াবতীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
 
এক সাক্ষাত্কারে দয়াশঙ্কর সিংহ বলেছেন, যৌনকর্মীরা যেমন টাকার বিনিময়ে খদ্দের খোঁজেন, মায়াবতীও ঠিক সে রকমই করেন। টাকার বিনিময়ে পার্টির টিকিট বিক্রি করেন। তবে তাদের সঙ্গে মায়াবতীর পার্থক্য এটাই যে, যৌনকর্মীরা নিজেদের ব্যবসার প্রতি অনেক বেশি সত্। একবার খদ্দের ঠিক হয়ে গেলে তারা আর কথার খেলাপ করেন না। কিন্তু মায়াবতী সকালে কাউকে ১ কোটি টাকার বিনিময়ে ভোটের টিকিট দেওয়ার পর, দুপুরে যদি অন্য কারও কাছ থেকে ২ কোটি টাকার প্রস্তাব পান, তাহলে আগের প্রার্থীকে বাতিল করে নতুন করে টিকিট বিক্রি করেন। আবার সন্ধ্যায় কেউ ৩ কোটি টাকা নিয়ে এলে, তাকেই টিকিট দেন। পরে তিনি এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান।
 
রাজ্যসভায় মায়াবতী বলেন, সবাই আমাকে বোন বলে ডাকে। বিজেপি’র ওই নেতা কেবল আমাকেই নয়, তার নিজের বোনকেও অপমানিত করেছেন। এজন্য বিজেপিকে কেউ কোনোদিন ক্ষমা করবে না। অন্যান্য দলের নেতারাও মায়াবতীর পক্ষে কথা বলেন। কংগ্রেস সদস্য কুমারি সেলজা বলেন, এর মাধ্যমে বিজেপি’র মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তৃণমূলের ডিরেক ও বাইরেন বলেন, এই ইস্যু কেবল নারীদের নয়, পুরুষদেরও। কারণ এটা পুরুষদের তৈরি।