দুনিয়া অনেকদিন ধরেই অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়াম, তথা বাংলাদেশেও সেই আতঙ্ক ছড়ানো বদলের ছোয়া লেগেছে। গতকাল জাতীয় দলের ক্যাম্পের প্রথম দিন, এইচপির চলমান ট্রেনিং মিলিয়ে ক্রিকেটারদের বিরাট মেলা বসেছিলো। সেই মেলাও একটু ম্লান করে রাখলো টানটান নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
লম্বা মৌসুমের সূচনালগ্নে জাতীয় দলের সীমিত ওভারের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বললেন, এই নিরাপত্তা তারা নিজেদের ও ক্রিকেটের স্বার্থেই মেনে নিয়েছেন। সেই সাথে এমন আটোসাটো নিরাপত্তা ও ক্রিকেটপ্রেমিক বাংলাদেশীদের ভরসায় বারবার অভয় দিলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে। যাতে তারা সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে সময় মতো সফরে চলে আসে।
মিরপুর স্টেডিয়ামের গেটে, ভেতরে-বাইরে সব জায়গায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি বরং মাশরাফির এই আহবানকেই শক্ত করছে। তিনি বলছেন, এতে সবার সুবিধাই হচ্ছে, ‘স্বস্তি বোধ না করার কিছু নাই। সবার সুবিধার জন্যই এটা করা হয়েছে (নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে)। এটা আমাদের কোনো অসুবিধা করছে না। সব ঠিক আছে।’
ইংল্যান্ড শেষ অবদি নির্ধারিত সময়, মানে ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসবে কি না, এটা মূলক কূটনৈতিক ও ক্রিকেট প্রশাসনিক একটা ব্যাপার। তাই ভেতরের ব্যাপার নিয়ে খুব কথা বলতে চাইলেন না মাশরাফি। তবে তিনি বলছেন, ইংল্যান্ডকে তারা বাংলাদেশের ক্রিকেট-বন্ধুই মনে করেন। তাই দলটি আসবে বলেই তার বিশ্বাস, ‘দেখেন একটা ব্যাপার হলো, টেকনিক্যালি ভিতরে কী আলোচনা হচ্ছে, তা আমরা জানি না। আশা করি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ব্যপারটা নিয়ে কাজ করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি ট্যুরটা হবে। বাংলাদেশের সমর্থকরা অনেক দিন ধরেই খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের সবাই খেলাটা খুব পছন্দ করে। তারা মনে করে ইংল্যান্ড আসবে। তাদের সঙ্গে খেলবে। ইংল্যান্ড সব সময় বাংলাদেশকে হেল্প করেছে। তারা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এসেছে (তখনও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিলো)। আগেও তারা বাংলাদেশকে হেল্প করেছে। আশা করছি, ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি তারা আসবে।’
মাশরাফির একটা বড় ভরসা এই দেশের লাখ লাখ ক্রিকেটভক্ত। বাংলাদেশের মানুষের এই যে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা, এটাকেই শক্তি মনে করছেন তিনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, ‘ওরা তো নিরাপত্তা পাবে। অন্যান্য দলকে যেমন নিরাপত্তা দেয়া সেটা তারা পাবে। আর আমি যেটা বললাম এখানে সবাই ক্রিকেট পছন্দ করে। সব জায়গায় ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হয়। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ জানে কিভাবে ক্রিকেটারদের সম্মান করতে হয়। ও জায়গাটা বাংলাদেশের মানুষের আছে। আমার মনে হয় না কোনো সমস্যা হবে।’
এই ভরসাতেই ইংল্যান্ড দলের প্রতি পরিষ্কার আহবান জানালেন, ভয় না পেয়ে চলে আসার জন্য, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, ক্রিকেট ফলোয়াররা, বয়স্করা, মধ্য বয়সীরা এবং তরুণরাও ক্রিকেট নিয়ে খুব চিন্তা করে। ক্রিকেটারদের, অন্য দেশ থেকে যারা আসে, তাদেরকে সম্মান দেয়া হয়। ইংল্যান্ডকে আগেও যথাযথ নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। এখানও দেয়া হবে। ক্রিকেট সংস্কৃতিটা ধরে রাখতে, আশা করি ওনারা আসবেন, আশা করি একটা ভালো সিরিজ হবে।’
এমনিতে নিরাপত্তা এমন করে আলোচ্য হয়ে উঠলে ক্রিকেটে মন দেওয়া একটু কঠিন হয়। তবে জাতীয় দল অধিনায়ক বলছেন, এখনও অনেক সময় আছে বলে এ নিয়ে চিন্তিত নন তারা, ‘আমরা সবাই আশাবাদী। এখনো তিন মাস বাকি। সবচেয়ে বড় ব্যপার হলো, এখানেই তো শেষ নয়। সবারই উচিত ফিটনেস ধরে রাখা। আমাদের উচিত ফিটনেস ধরে রাখা, খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বাকিটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেখবে।’
আপাতত নিজেদের যে কাজ, ফিটনেস বাড়ানো, সেখানেও ওই নিরাপত্তাজনিত কারণে একটু ঝামেলা তৈরী হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দলের সাথে কোনো কোচ যোগ দেননি। কন্ডিশনিং ক্যাম্প যার দায়িত্বে হওয়ার কথা, সেই মারিও ভিল্লাবারায়নও নেই। সেটা একটু অস্বস্তির ব্যাপার, তা স্বীকার করেও মাশরাফি বলছিলেন, 'মারিও ছাড়া আমরা অভ্যস্ত নই। তবে ইফতি আছে। সে অনেক দিন আমাদের সঙ্গে আছে। তাকে নির্দেশনা দেয়া আছে। এ ছাড়া খেলোয়াড়রা নিজেদের কাজটা নিজেরা বুঝে নিয়েছে। এখন সবাই জানে যে, নিজের কাজটা নিজেরই করতে হবে। মারিও থাকলেই পুশ করবো, এমন নয়। এক দেড় মাস গ্যাপ থাকলেই আনফিট হয়ে যাবো, এটা সবাই জানে। সবাই এটা জানে। নিজেদের যত্ন নেয়া শেখা, নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখা, এমন কিছুর জন্য দারুণ সুযোগ।'
