ছয় জেলায় বন্যায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৬, ০১:৩৯
প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। নদী ভাঙনে ঘর হারিয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে বন্যাকবলিত মানুষের। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
 
কুড়িগ্রাম: পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে গতকাল ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫৫ সে.মি ও ধরলার পানি বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে ৯ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ। প্লাবিত হওয়ায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গত দুইদিনে নদীর ভাঙনে চার শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি নিম্ন মাধ্যমিক ও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২ কিলোমিটার বাঁধ। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে বন্যাকবলিতরা চরম দুর্ভোগে রয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. জয়নাল আবেদীন জিল্লুর জানান, ৮৫টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
 
সুনামগঞ্জ: গতকাল সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পানি। গত চারদিন ধরে সুনামগঞ্জের সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, তাহিরপুর ও শাল্লা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৩০টি গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ১১টি উপজেলায় ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ৮৮ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
 
রংপুর:গতকাল তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। এরই মধ্যে কাউনিয়া, পীরগাছা ও গঙ্গাচড়া উপজেলার চরাঞ্চলের প্রায় ৬শ’ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো পানিবন্দী রয়েছে তিস্তা তীরবর্তী প্রায় ১৫ হাজার পরিবার। ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো ও পানিবন্দী মানুষদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
 
গাইবান্ধা: জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, ঘাঘটের পানি ১৫ সে. মিটার, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি ১০ সে. মিটার, করতোয়ার পানি ১০ সে. মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার চারটি উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত ১৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার পানিবন্দী মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, জেলায় এক হাজার ৮২৯ হেক্টর জমির পাট, সবজি ও রোপা আমনের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। চারটি উপজেলার ৪৫টি বিদ্যাপীঠ বন্ধ রয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকা, ১২৫ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
 
জামালপুর: অবিরাম বর্ষণ ও প্রতিবেশী দেশের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল জেলার বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ২১ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জের তিনটি, ইসলামপুরের সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে দুই উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
 
বগুড়া: যমুনার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বড়ইকান্দি থেকে শুরু করে কামালপুর  পর্যন্ত ৮ কি.মি. বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে দেড় হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আড়াই হাজার পরিবারের মাঝে ৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করেছেন এমপি আবদুল মান্নান।
 
যশোর: প্রবল বর্ষণ ও ভৈরব নদের জোয়ারে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় ২৮শ’ বস্তা সরকারি ইউরিয়া সার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। নওয়াপাড়ার ব্রাদার্স ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। ৭ মাস আগে নবাব এন্ড কোং নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১০ হাজার বস্তা ইউরিয়া সার এনে ড্যাম্পিং করে রাখে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা মাহাবুব হোসেন জানান, চাহিদা কমে যাওয়ায় সেখানে সার থেকে যায়। নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরিয়া ভেসে যায় প্রায় ২৮শ’ বস্তা।
 
ফরিদপুর: সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল খাঁর পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পদ্মার ভাঙনে নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চরদিয়ারা, আকনকান্দি গ্রামের প্রায় ২০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে ৫০টি ঘড়বাড়ি শতাধিক একর ফসলের মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।