বিএনপির সঙ্গে জঙ্গি বিরোধী জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, 'যারা পুলিশ, মসজিদের ইমাম ও পুরোহিতদের হত্যা করে তাদের সঙ্গে কোন ঐক্য হতে পারে না। খুনিদের সঙ্গে কোন ঐক্য নেই। ঐক্য হবে জনগণের সঙ্গে।'
তিনি রবিবার বিকেলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ১৪ দলের আয়োজনে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
স্থানীয় এন ইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক টিআইএম নূরন্নবী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশাল এই প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিকদল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল , বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান রহমান সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।
এসময় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম গুলশান ও শোলাকিয়ায় ঈদগাহ মাঠে জঙ্গি হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত অভিযোগ করে বলেন, 'বিগত বছরগুলোতে আন্দোলনের নামে নাশকতা করে মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন ঠেকাতে না পেরে তারা শেখ হাসিনাকে যেকোনো ভাবে ক্ষমতা থেকে হটাতে চায়। সবকিছুতে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা বিদেশী হত্যা শুরু করেছে।'
বিএনপিকে ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, 'বিএনপি এখন কোথাও নেই। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে নেতা-কর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এখনও সময় আছে ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্য দল গোছান। যদি সেই নির্বাচনেও অংশ না নেন তাহলে বিএনপি থাকবে না।'
এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ১৪ দলের নেতৃত্বে জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'ছাত্র-শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, পুলিশসহ সব শ্রেণি- পেশার মানুষকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। তবে কমিটি যেন শুধু আওয়ামী লীগের কমিটি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে নিয়ে গঠিত কমিটির লোকজন পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারা নিখোঁজ আছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করবে।'
