মেক্সিকো সীমান্তে জড়ো হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সীমান্ত এলাকায় সেনাসদস্যরা ‘নিরস্ত্র’ থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস।
সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকান শরণার্থীদের একটি কাফেলা মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের উদ্দেশ্যে গুয়েতেমালা থেকে রওনা দেয়। কয়েক হাজার মাইল পেরিয়ে কাফেলাটি এখন মেক্সিকোর ভিতর দিয়ে মার্কিন সীমান্তের দিকে এগুচ্ছে। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থান থেকে এই কাফেলায় বহু মানুষ যুক্ত হন। এতে এই কাফেলায় থাকা মানুষের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এদের বেশিরভাগই হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা ও এলসালভেদর থেকে আসা। সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার এই মানুষগুলো উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চান। এই কাফেলার প্রায় তিন হাজার সদস্য এরই মধ্যে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানায় জড়ো হয়েছেন। প্রতিদিনই সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের ঠেকাতে সীমান্তে পাঁচ হাজার ৮০০ সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মেক্সিকো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যরা নিরস্ত্র থাকবেন এবং তারা কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না বলে বুধবার জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কোনও বন্দুক থাকবে না। সেখানে কোনও সশস্ত্র অভিযান চলছে না।’
ম্যাটিস বলেন, সেনাসদস্যরা সীমান্তে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, সেনাদেরকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়নি। তাদের বলা হয়েছে, ‘স্বাভাবিক থাকো। চিন্তার কিছু নেই।’ ম্যাটিস জানান, লাঠি ও ঢাল নিয়ে থাকা সামরিক পুলিশরা কিছুক্ষণের জন্যও অভিবাসীদের আটক রাখতে পারবেন কিন্তু সেটা এক ঘণ্টাও নয়। গ্রেফতারের এখতিয়ারও তাদের নেই। তিনি বলেন, ‘যদি সীমান্তে টহলরতদের ওপর কেউ হামলা করে ও আমাদের কিছু করার সুযোগ থাকে, তবেই আমরা তাকে আটক করে সীমান্ত পুলিশের কাছে প্রত্যর্পণ করতে পারি, তাদের গ্রেফতারের এখতিয়ার রয়েছে।’
উল্লেখ্য, নভেম্বরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় প্রদানকে নিষিদ্ধ করে নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেন। নতুন নিয়মের আওতায়, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে যারা প্রেসিডেন্টের বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করবে তাদেরকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সময় মার্কিন প্রশাসনের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জাতীয় স্বার্থে অভিবাসন ঠেকানোর এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
