নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার যাত্রামুড়া এলাকায় জোবেদা গ্রুপের এখলাছ উদ্দিন টেক্সটাইল মিলের শিশু শ্রমিক সাগর বর্মণের (১০) পেটে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হুদাকে (৩২) যাত্রামুড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ কারখানা থেকে ২৪ শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করেছে।
রূপগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরিদর্শ (এসআই) এনামুল হক চৌধুরী জানান, সাগর বর্মণের পিতা রতন বর্মণ চারজনের নাম উল্লেখসহ ১০ জনের নামে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- এখলাছ উদ্দিন টেক্সটাইলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হুদা (২৪), উৎপাদন ম্যানেজার হারুন অর রশিদ (৪৮), সিনিয়র উৎপাদন কর্মকর্তা আজাহার ইমাম সোহেল (৩৬) ও সহকারী উৎপাদন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম (৪০)।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ কে এম শফিউজ্জামান জানান, পায়ুপথে বাতাস ঢোকানোর কারণেই ১০ বছরের শিশু সাগর বর্মণের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির সমস্ত শরীর ফোলা ছিল।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ চন্দ্র দাস জানান, ময়নাতদন্তের আগে শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। শিশুর বাবা রতন বর্মণের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাগর বর্মণ নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার রাজিবপুর গ্রামের রতন বর্মণের ছেলে। সে পিতার সঙ্গে জোবেদা গ্রুপের টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে কাজ করে আসছিল। সাগর তার পরিবারের সঙ্গে ৭ মাস ধরে রূপগঞ্জের দীঘিবরাবো এলাকার সাত্তার মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল।
এদিকে সোমবার দুপুরে রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ২৪ শিশু-কিশোর শ্রমিককে উদ্ধার করেছে। এ সময় বহু শিশু শ্রমিক পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত শিশু শ্রমিকরা হচ্ছে- আব্দুল্লাহ মিয়া (১৪), মিঠুন (১৪), হাসানুর রহমান (১৩), আল-আমিন (১৭), রুবেল মিয়া (১৭), মো. হোসেন (১৬), রিপন (১৭) সুমন (১৫), নাজমুল (১৬), শাকিব (১৬), নয়ন (১৫), সফিকুল ইসলাম (১৬), সাফায়েত হোসেন (১৪), শ্রী বিদ্যুৎ (১৫), বিশ্বজিৎ রায় (১২), শরীফ (১২), তোফায়েল হোসেন (১৩), রানা মিয়া (১৪), আনোয়ার হোসেন (১৫), মো. রানা (১৬), মুন্না মিয়া (১৭), মাহবুব (১৬), মাসুম (১৬), মিলন মিয়া (১৭)। তারা রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়া। উদ্ধারকৃতদের রূপগঞ্জ থানায় নেয়া হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিজ নিজ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
