জাতীয় মত্স্য সপ্তাহের পাশাপাশি বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীসহ সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নেট জাল দিয়ে চলছে ব্যাপকভাবে রেণু পোনা নিধন। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কারেন্ট জাল দিয়ে গলদা ও বাগদ চিংড়ির রেণু আহরণ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকায় গলদা ও বাগদা চিংড়ির পোনা উত্পাদনের জন্য হ্যাচারির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও নদ-নদী থেকে নেট জাল দিয়ে পোনা আহরণ বন্ধ হয়নি। অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের এ নেটে সকল প্রকার মাছের ডিম ধরা পড়ে নষ্ট হয়। একটি রেণু পোনা ধরার জন্য প্রায় ৪৬৫ প্রজাতির মাছের পোনা ধরা পড়ে মারা যায়। সাধারণত নেট টেনে বা পাতিয়ে রেখে পোনা আহরণ করা হয়। কিছু সময় পর পর নেট তুলে কোনো পাত্রে রেখে পানির উপর থেকে শুধুমাত্র ভাসমান রেণু পোনা তুলে নেয়া হয়। বাকি পানি নদী চরে অথবা নৌকার ভিতরে ফেলে দেয়। যার ভিতরে থাকে হাজার হাজার প্রজাতির মাছের পোনা ও ডিম। এমনকি ইলিশ মাছের পোনাও প্রচুর পরিমাণে এভাবে নেটের মাধ্যমে ধ্বংস হয়। উপকূল এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু আষাঢ় শ্রাবণ মাস থেকেই পোনা আহরণের কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। অন্যান্য এলাকা থেকেও লোক এসে উপকূলের পাশে ঘর তুলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত রেণু আহরণে ব্যস্ত থাকে।
মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাগদা বা গলদার পোনা আহরণে ১১৯ প্রজাতির পোনা, ৩১২ প্রজাতির জুপ্লান্টন ও ৩১ প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়। যে কারণে একদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য অন্যদিকে দেখা দিয়েছে মাছের অভাব। চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ীরা বলছেন, হ্যাচারির পোনার চেয়ে নদ-নদীর পোনা অনেক শক্ত। সহজে মরে না এবং দ্রুত বেশ বড় হয়। এজন্য বেশি দাম দিয়ে সে পোনা সংগ্রহ করা হয়।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, নেট জাল দিয়ে পোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু জাল জব্দ করা হয়েছে।
