অস্ট্রেলিয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে নির্যাতন, তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৬, ১৪:৫৩
 
অস্ট্রেলিয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে কিছু কিশোরের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। 'ফোর কর্নার' নামে এক প্রোগ্রামে এমন নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ দেখানোর পর কেবিনেটের অনুমতি ছাড়াই রয়েল কমিশন গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
 
তাতে দেখা যায়, প্রথমে কিশোর সংশোধনাগারের ভেতরে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এরপর সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসা হয় তিন কিশোরকে। তাদের জামা-কাপড় খুরে গায়ে পানি ঢালা হয়। এ সময় কিশোরদের কথোপকথনের মাধ্যমে বোঝা যায়, নির্যাতনের জন্য গরম পানি ঢালা হচ্ছে। এ পর্যায়ে এই কিশোরদের একজন নিজের শারীরিক ক্ষতি করার ভয় দেখালে তার মাথা কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সেই সঙ্গে একটি চেয়ারের সঙ্গে তাকে হাত-পা বেঁধে রেখে দেয়া হয়। সাধারণ পাগলাগারদে থাকা পাগলকে আটকে রাখতে এমনটা করা হয়।
 
এসব ঘটনা ঘটেছে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে ওই কিশোরকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। অন্য একটি বালককে স্থানান্তর করা হয় প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত জেলে। সেখানেই তাকে ওই চেয়ারে বেঁধে রাখা হয় ২ ঘণ্টা। এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া জুড়ে তোলপাড় চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল তদন্তের জন্য রয়েল কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, অন্য অস্ট্রেলিয়ানদের মতো আমিও এতে গভীরভাবে মর্মাহত, হতাশ।
 
উল্লেখ্য, নর্দান টেরিটোরিতে ডোন ডেল সেন্টার কিশোর সংশোধনাগারে ওই ঘটনা ঘটেছে।
 
কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে এমন অশোভন আচরণের বিষয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ান মানবাধিকার কমিশনের প্রেসিডেন্ট গিলিয়ান ট্রিগস। তিনি বলেছেন, আমি মনে করি রয়েল কমিশন গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দ্রুত তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট দেবেন। বিবিসি।