রাজশাহীর গুলশানে হামলার পর বাংলাদেশে আরো জঙ্গি হামলার হুমকি দিয়ে বাংলাদেশের তিন তরুণের যে ভিডিও ৬ জুলাই আইএস প্রকাশ করে তাদের একজন রাজশাহীর তাওসিফ হোসেন (মুখ ঢাকা)।
র্যাবের ৬৮ জন জঙ্গির নতুন তালিকায় তার পরিচয় পাওয়া গেছে। তার বাবার নাম ডা. আজমল হোসেন। তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ঘোড়ামারার রামচন্দ্রপুর এলাকায়। তার বর্তমান ঠিকানা দেয়া হয়েছে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায়।
তবে এলাকাবাসী তাদের সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে পারেননি। কারণ তারা অনেক আগেই ঢাকায় বসবাস শুরু করেছেন। তাওসিফ হোসেন ঢাকার আইবিএ বিজনেস স্কুলের ছাত্র ছিল। পড়া পুরো শেষ না করেই মাঝপথে ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশের জেএমবি জঙ্গিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টর অভিযোগে পুলিশ তাকে একবার আটক করেছিল। পরে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেয় পরিবার। সেখান থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।
এ ছাড়া আরো তিনজনের নাম রয়েছে র্যাবের প্রকাশ করা সর্বশেষ তালিকায়। এরা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার টাংগন এলাকার বাবর আলীর ছেলে আশিক ওরফে সাব্বির হোসেন (১৬), রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৫ নম্বর তালন্দ ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে বাশারুজ্জামান ওরফে আবুল বাশার ও বাগমারা থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে শরিফুল ইসলাম।
র্যাবের প্রকাশ করা নতুন তালিকার ৮ নম্বরে তাওসিফ, ১৭ নম্বরে আশিক, ১৯ নম্বরে বাশারুজ্জামান ও ২০ নম্বরে শরিফুল ইসলামের নাম রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারা যায়, মোহাম্মদ বাসারুজ্জামান ওরফে আবুল বাশার নিখোঁজ আছেন। বাশার তানোরের লালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।
ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি শাখা থেকে লেখাপড়া করার পরে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন বাশার। সেখানেই বিয়ে। সেই সূত্রে দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ঢাকা তেজগাঁওয়ে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো বাশার। গত ৬ থেকে ৭ মাস আগে তেজগাঁওয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে বাশার নিখোঁজ হন।
তানোর উপজেলার লালপুর গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও লালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দীনের ছেলে বাশার দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বড়।
বাগমারা থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে শরিফুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। এপ্রিলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকান্ডের তন্তের সময় পুলিশের কাছে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এদিকে নিখোঁজ আশিকের বাবা বাবর আলী জানান, তার ছেলে ফেনী থেকে নিখোঁজ হয়েছে।
