বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন স্মরণে শিশু বইমেলা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ২২:৩২

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শিশু একাডেমি চত্বরে শুরু হয়েছে শিশু বইমেলা। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এই বইমেলা। শিশু একাডেমির খোলা প্রাঙ্গণে শুধু শিশুদের বই নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এ মেলায়। বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে শুরু হয় বইমেলা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ছয়দিনের এ মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। সহযোগিতায় রয়েছে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি।

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এবারের বইমেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিলন কান্তি নাথ এবং শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন। অনুষ্ঠানে শিশু একাডেমি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি’ আয়োজনের সেরা দশ প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে ‘সেরাদের সেরা’ পুরস্কার পেয়েছেন যশোরের কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইয়াসমিন।

আনিসুজ্জামান বলেন, নিজের শ্রম, মেধা ও বিচক্ষণতা দিয়ে সামান্য একজন কর্মী থেকে মানুষের নেতা হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। শিশুদের প্রতি তার অনেক অনুরাগ ছিল। শিশুদের তিনি ভালোবাসতেন। যার কারণে তার জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। শিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ওদের পড়াশোনা কমে যাচ্ছে। তারা ফেসবুক-ইউটিউবে ঝুঁকে পড়ছে। তাদের কাছে অনুরোধ, বই পড়ার জন্য সময় বের করতে হবে। পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগতে প্রবেশ করতে হবে।

সেলিনা হোসেন বলেন, ছেলেমেয়েরা ঠিক মতো বড় না হলে, তাদের জ্ঞানের পরিধি যদি ঠিক মতো না বাড়ে। নিজের দেশকে, নিজের মানবতা নিয়ে যদি বড় হতে না পারে, তাহলে দেশের জন্য মঙ্গলকর হয় না। তারা বেড়ে উঠবে সুস্থ, সুন্দর, মানবিক চেতনায়; এটাই প্রত্যাশা।

মেলায় শুধু শিশুতোষ বই নিয়ে যোগ দিয়েছে ৭৬টি প্রতিষ্ঠান। ২৫ শতাংশ ছাড়ে নিজেদের বইগুলো কিনতে পারবে শিশুরা। মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লেখক-পাঠকের কথোপকথন, সিসিমপুরের বিশেষ আয়োজন। এ মেলা উপলক্ষে আজ শুক্রবার থাকছে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ২৪ মার্চের সাংস্কৃতিক আয়োজনে থাকছে সঙ্গীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গীত পরিচালনায় জাতীয় শিশু পুরস্কার বিজয়ী শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় ছড়াগানের আসর।

আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে ছুটির দিন মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়। চলবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত।