বরিশাল মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র টাইলসের গুদাম!

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৪

নগরীর বান্দ রোডস্থ সরকারি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত। কীর্তনখোলার তীর ঘেঁষে এক দশমিক ২৩ একর জমির ওপর ১৯৮৫ সালে এ মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে বরিশাল মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। তিন দশকেরও বেশি সময় আগে এ মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও তা অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। সকল সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মত্স্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রভাবশালী গ্রুপ এ অবতরণ কেন্দ্র চালু হতে দেয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে সর্বশেষ ২০০৯ সালের জুলাই মাসে সর্বশেষ মাছ বেচাকেনা ও প্যাকিং হয়। এরপর থেকে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ওয়ান-ইলেভেনের পর যৌথবাহিনীর সহায়তায় ওই অবতরণ কেন্দ্রটি সচল করা হলেও দুই বছরের মাথায় তা আবার অচল হয়ে পড়ে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুইটি ইলিশ মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে। বর্তমানে অফিস কক্ষ ব্যতীত বরফকল গোডাউন, নিলাম সেট, ১৬টি আড়তঘর ও একটি টাইলস স্যানিটারি মালামাল বিক্রয়কারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়ে স্টাফদের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে এ অবতরণ কেন্দ্রে কর্মরত অফিস সহকারী, সহকারী হিসাব রক্ষক এবং এলপিআরএ থাকা একজন কর্মকর্তা ও পিরোজপুরের পাড়েরহাট মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে কর্মরত একজনের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৯১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে এই ভাড়ার টাকা দিয়ে। গত বছরের এপ্রিল থেকে ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে পাওয়া প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪ জনের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। বিপুল টাকা ব্যয়ের এ প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। অথচ দক্ষিণাঞ্চলে নির্মিত মংলা, খুলনা ও পাথরঘাটার অবতরণ কেন্দ্রগুলো সচল রয়েছে। বর্তমানে আহরিত দেশি ও সামুদ্রিক মাছের Post Harvest Loss রোধকরণের লক্ষ্যে বিএফডিসির দেশের ৩টি উপকূলীয় জেলার ৪টি স্থানে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন হচ্ছে যার ৩টি দক্ষিণাঞ্চলে। স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে মত্স্য অবতরণের আধুনিক সুবিধাদি কার্যক্রম নিয়ে  পটুয়াখালীর মহিপুর, আলিপুর ও পিরোজপুরের পাড়েরহাট কেন্দ্রের  নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অথচ বরিশাল মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালু করতে সংস্থার চেয়ারম্যান বার বার সরেজমিন পরিদর্শন করে উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তারা জানান, এ কেন্দ্রটি চালু করতে বহু বার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ সরকারি এ অবতরণ কেন্দ্রে বিশাল মার্কেট, ১৫ টন উত্পাদন ক্ষমতার বরফ কল, ১০ হাজার গ্যালনের একটি জলাধার, আড়তদারদের জন্য একটি দ্বিতীল ভবন ও একতলা একটি প্রশাসনিক ভবন, কোল্ড স্টোরেজ , গাড়ি পার্কিং জোন ও নদী থেকে মত্স্য উঠানোর জন্য আধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশনসহ নানান সুবিধা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও কোনো লাভ হয়নি। কেন্দ্রে ৩৬টি পদের স্থলে বর্তমানে দুইজন স্টাফ নিয়োজিত রয়েছেন।

করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) দিলদার আহমদ ইত্তেফাককে জানান, বৃহত্ বরিশাল মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করতে কয়েক বার জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মত্স্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করা হলেও সুফল মেলেনি। ব্যবসায়ীরা এ অবতরণ কেন্দ্রে আসার অঙ্গীকার করলে তা চালু করতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।