পিনাকি দাসগুপ্ত
শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সাথে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যায়। সেখানে অভিভাবকরা পানিতে নামে। কিন্তু বাচ্চারা নামতে না পারার কারণে দাঁড়িয়ে থাকে তীরে। পর্যটকদের আধিক্য, পানিতে নামা অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে অনেক সময় বাচ্চারা দলছুট হয়ে পড়ে। ফলে সৈকতে বেড়ানোর আনন্দটাই ম্লান হয়ে যায়। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারে তৈরি করছে শিশু বিনোদন কেন্দ্র। অভিভাবকরা এ কেন্দ্রে বাচ্চাদের রেখে সমুদ্রস্নানে যেতে পারবেন। বিনা খরচে দেখাশোনা করবে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম। প্রথম দফায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত লাবণী পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার লাগোয়া স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে শিশু বিনোদন কেন্দ্র। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পয়েন্টেও গড়ে তোলা হবে। উল্লেখ্য, ট্যুরিস্ট পুলিশ গত তিন বছরে সমুদ্র সৈকতে হারিয়ে যাওয়া বা দলছুট হয়ে পড়া ১৫৩ শিশুকে অভিভাবকের নিকট পৌঁছে দিয়েছে ।
ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারসহ সারা দেশে ভ্রমণ পিপাসু দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমি ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব নেওয়ার নয় মাসের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সমুদ্র সৈকতে ট্যুরিস্টদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে বড় সমস্যা হচ্ছে বিচ (সৈকত) থেকে শিশুদের হারিয়ে যাওয়া বা দলছুট হয়ে পড়া। কেননা শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সাথেই সৈকতে যায় এবং পানিতেও নামতে চায়। কিন্তু অভিভাবকরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিশুদের বিচে (সৈকত) দাঁড় করিয়ে পানিতে নেমে পড়েন। অনেক সময় পানির টানে অভিভাবকরা স্থানচ্যুত হয়ে পড়েন এবং অপেক্ষমান শিশুরাও নিজেদের মতো করে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করে। ফলে শিশুরা অভিভাবক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শেষটায় নিজেরা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের শরণাপন্ন হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা ফেস করেন। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশাকরি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা এ কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, অনেক অভিভাবকের সাথে এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আশাকরি শিশু বিনোদন কেন্দ্র চালু হলে অভিভাবকদের সৈকত ভ্রমণ আরো আনন্দদায়ক হবে।
শিশু বিনোদন কেন্দ্রে কী ব্যবস্থা থাকবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাচ্চাদের খেলার ব্যবস্থা, তাদের গেম শো দেখানোর ব্যবস্থা ও বড় টিভি স্ক্রিনে সমুদ্রের ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা। আর শিশুদের দেখভালের জন্য থাকবে দক্ষ পুলিশ সদস্যরা। তারা শিশুদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরে তার অভিভাবকের নিকট বুঝিয়ে দেবে। অভিভাবকরা ১/২ ঘণ্টার জন্য শিশুদের রেখে পানিতে নামতে পারবেন।
বাড়ছে দেশি-বিদেশি পর্যটক
ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. নাজমুল হোসেন জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের তত্পরতা পর্যটকদের ঘিরে। শুধু নিরাপত্তাই নয় পর্যটকদের রাত যাপন তথা আবাসন সমস্যাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা। আর এটি নিশ্চিত করা সম্ভব হওয়ার কারণেই দিন দিন বাড়ছে দেশি এবং বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা। ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো জানান, ২০১৫ সালে দেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজার, বিদেশি ছিল ৫৭ হাজার ৬৫০ জন। ২০১৬ সালে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার, বিদেশি ৪৫ হাজার। ২০১৭ দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার, বিদেশি ছিল ৮৫ হাজার। আর ২০১৮ সালে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার এবং বিদেশি পর্যটক ছিল প্রায় এক লাখ।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সেবা
মো. নাজমুল হোসেন আরো জানান, পর্যটকদের সচেতনতার জন্য নিরাপত্তা টিপসসহ নিয়মিত ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অপরদিকে সমুদ্র সৈকত এলাকার ফাস্টএইড বক্স, রেসকিউ টিম, আধুনিক বিচ বাইক, স্যান্ড সাপোর্ট ভেহিকেল, জেডস্কিসহ কন্ট্রোলরুম ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ওয়েব সাইট www.tourist.police.gov.bd ফেসবুক Touristpolice.BD চালু করা হয়েছে। দ্রুত যোগাযোগের জন্য হটলাইন ০১৭৬৯-৬৯০৭৪০ সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে। তিনি বলেন, ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট সরকারি সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট পুলিশ তার সেবা প্রদান করে থাকে। ট্যুরিস্ট পুলিশ হেল্প লাইন (১৩৮৮৮), ট্যুরিস্ট পুলিশের ডাটাবেজ তৈরিসহ বেশকিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হিসাবে ট্যুরিস্ট পুলিশ আত্মপ্রকাশ করলেও মূলত ২০১৫ সাল থেকেই ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়।
