ইত্তেফাক রিপোর্ট
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজুবলি ইউনিয়নে এক নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামি মো. রুহুল আমিনকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত সোমবার তাকে এক বছরের অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন দেয়। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট বিশ্বজিত রায়। তিনি বলেন, জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করার জন্য ইতোমধ্যে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও চর জুবলি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বার ছিলেন। ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ।
ধর্ষণের মামলায় গত ৪ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়।
গত ৪ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদেশে বলেন, রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায় এটা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হন। জামিনপ্রার্থী এই আসামি রুহুল আমিনের হুকুমে ও নির্দেশে অপরাপর আসামিরা গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। ওই নারী এ মর্মে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারার জবানবন্দিতে বিষয়টি উল্লেখ করেন। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় জামিন না-মঞ্জুর করা হলো।
এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। ওই জামিন আবেদনে বলা হয়, জামিন আবেদনকারী পেশায় আইনজীবী মুহুরি। মামলার এজাহারে নাম নেই। পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে আসামি করা হয়। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে জামিন দেওয়া হোক। আদালতে আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আশেক-ই-রসূল এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট বিশ্বজিত রায় উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী ৩১ ডিসেম্বর চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আসামিরা ঘরে ঢুকে আমাকে ও স্ত্রীকে মারধর করে। এক পর্যায়ে আমার স্ত্রীকে ঘরের বাইরে নিয়ে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
