মদনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৬, ১৩:১৪
নেত্রকোনার মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিকুলের  বিরুদ্ধে অনিয়ম ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ভাটী বাংলার মানুষের প্রাণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৪ মে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়। ২০১৫ সালের ২৩ মে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম কলেজে যোগদানের পর থেকেই তিনজনের একটি সিন্টিকেট তৈরি করেন।  সাধারণ শিক্ষকরা এই সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করলে অধ্যক্ষ শিক্ষকদেরকে পাতলা কাগজ  (শোকজ) ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন।
 
এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নয়টি অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ২০১৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পু্নঃভর্তির নামে সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে পাঁচ শ টাকা ও ১ ও ২ বিষয়ের জন্য তিন শ টাকা রশিদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি ও ফরম পূরণের সময় নির্ধারিত ফিস এর চেয়ে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা হয়। এবং শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত রশিদের চেয়ে কলেজ অংশের রশিদে দুই শ টাকা থেকে তিন শ টাকা কম লেখে ব্যাংকে জমা দেয়া  হয়।
 
২০১৬ সালের ৭৪২  এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড দেয়ার সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা অবৈধ ভাবে আদায় করা হয়।
 
২০১৩ সালের ১৪ মে কলেজটি সরকারি হওয়ার পর থেকে নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক পরিষদ ও একাডেমি কাউন্সিল গঠন করা হয়নি। অধ্যক্ষ  তার পরিবারের লোকজন ও বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত দিয়ে কলেজের টাকায় আমোদ প্রমোদ করেন।
 
২০১৪ বাউবি এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সময় অধ্যক্ষ সমন্বয়কারীকে বাদ দিয়ে নিজেই পরীক্ষার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে পরীক্ষার্থীদের নকলের সুযোগ দেয়ার কথা বলে ১ম ও ২য় বর্ষের ২১২ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইংরেজির শিক্ষক মুহাম্মদ আজিজুল হকের মাধ্যমে পাঁচ শ টাকা আদায় করেন।
 
২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি পাস প্রথম বর্ষের ৩৩০ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইনকোর্স পরীক্ষার কথা বলে প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে রশিদ বিহীন ১০০ টাকা করে আদায় করেন।
 
২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত ৫৬১ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার কথা বলে গণিতের শিক্ষকের মাধ্যমে রশিদ বিহীন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করেন।
কলেজ সরকারি হওয়ার পর থেকে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময় বরাদ্দকৃত অর্থ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্রয় কমিটির মাধ্যমে আত্মসাৎ করছেন।
 
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১০ মার্চ কোনো জিনিস ক্রয় না করেই ঠিকাদারের কাছ থেকে নগদ দুই লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। আর্থিক সুযোগ সুবিধার জন্য প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করেন।
 
এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী  সৈকত হোসেন  বলেন, আমি এক বিষয়ে ফরম ফিলাপ  করতে ৯৬০ টাকা দিয়েছি, অপর পরীক্ষা নূর নবী  দুই বিষয়ে ফরম ফিলাপ করতে এক হাজার ৬০ টাকা দিয়েছে।’
 
ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সারোয়ার জাহান বলেন, `মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এ কলেজ থেকে আমাকে কোনো সুযোগ সুবিদা দেয়া হয় না। এমনকি উপবৃত্তি থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।'
 
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান  রহুল আমিন জানান, অভিযোগের অনুলিপি পেয়ে আমি বিষয়টি উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থাপন  করেছি।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খুরশীদ শাহরিয়র অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে। ’
 
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি বিধিমোতাবেক কলেজের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কেউ কোনো দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ কলেজে কোনো দুর্নীত ও অনিয়ম করার  সুযোগ নেই।’