বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, সড়কে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে পথচারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের ট্রাফিক পুলিশের। ব্যবস্থার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। বারবার বলছি, কাজ হচ্ছে না। এখন কঠোরভাবে আইনি প্রয়োগে যেতে হবে। যাত্রীবাহী বাস বা কোনো গাড়ি আগে যেতে প্রতিযোগিতা করলে বা রাস্তা বন্ধ করে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চে শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক সচেতনতা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ হলে পথচারীকেও আটক করুন। মিডিয়াকে দেখান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করেই রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনটি বিষয় আমরা ক্লিয়ার রাখতে চাই। এক. ফিটনেসবিহীন বাস আর ঢাকা শহরে চলতে দেব না। নির্ধারিত বাস স্টপেজের বাইরে দরজা বন্ধ রাখতে হবে, বাস দাঁড়াতে পারবে না। জেব্রা ক্রসিংয়ের আগে বাস দাঁড় করুন, যাত্রী সাধারণ ও পথচারীকে নিরাপদে রাস্তা পার হতে দিন। দুই. অভিযান জোরদার হবে ইনশাল্লাহ। তিন. দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে পথচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। মালিক শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, চুক্তিভিক্তিক কাজ বন্ধ করেন। বেতন ভিত্তিক মজুরি চালু করেন। বাসের রুট ঠিক রাখুন। এক লাইনের বাস অন্য লাইনে চলবে না।
প্রধান সড়কে লেগুনা চলবে না: ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের প্রধান সড়কে লেগুনা চলবে না। এই নির্দেশনা রয়েছে। ১১ বছরের শিশু লেগুনা চালায়, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত রিকশা চালায়; কিন্তু লাইসেন্স নেই। এসবেও এখন ট্রাফিক বিভাগকে নজর দিতে হবে। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, লেগুনায় আপনাদের (ট্রাফিক পুলিশ) আগ্রহ বেশি। এ সব বন্ধ করুন। কাজ করেন সড়কে শৃঙ্খলা, পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য। ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো মোটিভেশনে কাজ হবে না, ট্রাফিক সপ্তাহে কাজ হবে না, যদি আমরা কথা না শুনি, ট্রাফিক আইন না মানি। মালিক-শ্রমিক পুলিশ মিলে রাজধানীতে যাত্রী ছাউনির পাশাপাশি টিকিট কাউন্টার করার অনুরোধ জানান তিনি।
