ছেঁউড়িয়ায় মরমি গানের সুরে সুরে লালন স্মরণোত্সব

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৬

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বাউল ফকির লালন শাহের বার্ষিক স্মরণোত্সব উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে মরমি গানের সুরে সুরে মেতে উঠেছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি। ভক্ত-অনুসারী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় লালন মাজার এখন মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিদুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশসাক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, সংসদ সদস্য আ.কা.ম সরওয়ার জাহান বাদশা, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম প্রমুখ। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী।

আলোচনা শেষে রাতভর চলে লালন গীতির আসর। লালনের মানবতাবাদী গানে হূদয় ছুঁয়ে যায় দর্শক-শ্রোতাদের। সুরের মূর্ছনায় লালন সংগীতের এ আসর  হাজার হাজার দর্শনার্থী দারুণভাবে উপভোগ করেন। সুরের মূর্ছনায় লালন সংগীতের এ আসর হাজার হাজার দর্শনার্থী দারুণভাবে উপভোগ করেন। কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে গানের মূল অনুষ্ঠান ছাড়াও অডিটোরিয়ামের নীচতলায় উন্মুক্ত চত্বরে বাউলদের সাধুসঙ্গ ও খণ্ড খণ্ড গানের আসর দর্শক-শ্রোতাদের যেন এনে দেয় আলাদা আনন্দ-বৈচিত্র্য। এখানে যেন পার্থিব সমস্ত কিছু ভুলে মরমি গানের সুরের মধ্যে লালনের আধ্যাত্মিকতাকে খুঁজে পেতে উন্মত্ত বাউলরা। একতারা-দোতারা, ঢোল, বাঁশি ও অন্য বাদ্যযন্ত্রের বাজনার তালে তালে বাউলরা গান গেয়ে চলেছন অবিরাম।

‘বাড়ির পাশে আরশী নগর সেথা এক পড়শী বসত করে/ মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই কুল হারাবি / মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি / সত্য বল সুপথে চল, ওরে আমার মন/ এলাহি আলামিন গো আলা, বাদশা আলমপনা তুমি’ আরো অনেক লালন সংগীত পরিবেশনার সময় হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতা সুরের মূর্ছনায় যেন উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠেন। গানের আসর ছাড়াও মরা কালীগঙ্গা নদীর মাঠের চারপাশ জুড়ে বসেছে লালন মেলা। আজ শুক্রবার তিনদিনের অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটবে।

উল্লে­খ্য, ফকির লালন জীবদ্দশায় দোল পূর্ণিমা তিথিতে ভক্ত-শিষ্যদের নিয়ে গান-বাজনা করতেন, সেই ধরাবাহিকতায় পালিত হয়ে আসছে বার্ষিক স্মরণোত্সব।