নাগেশ্বরীতে গত ছয় দিনে অজ্ঞাত রোগে মারা গেছে অর্ধশতাধিক গরু। প্রতিষেধকেও ঠেকানো যাচ্ছে না মৃত্যু। আতঙ্কে অনেকেই গবাদিপশু সরিয়ে নিচ্ছেন অন্যত্র। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, ধারণা করা হচ্ছে- বিষাক্ত ঘাষ খাওয়ানোর ফলে গরুগুলো মারা গেছে। তবে ল্যাবের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এলাকার লোকজনকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের মহসিনের চর, কামারের চর, রঘুরভিটা, দেওয়ানগাজী, কেদার ইউনিয়নের ছালামের চরসহ চরাঞ্চলীয় গ্রামগুলোতে গত ছয়দিনে কিছু সুস্থ গরু হঠাত্ করে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে মারা যাচ্ছে। স্থানীয় পশু চিকিত্সক ছানোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত মহসিনের চরে ৪৩টি, রঘুরভিটায় ১৩টি, দেওয়ানগাজীতে একটি, কেদার ইউনিয়নের ছালামের চরে দু’টি গরু মারা গেছে। রঘুরভিটা গ্রামের মন্টু মিয়া, অলিল চন্দ্র, কেসমত আলী, সুলতান মিয়া, নূরমোহাম্মদ, নূরহোসেন, নালুয়া, আব্দুল হামিদ, জসিম উদ্দিন জানান, গত এক সপ্তাহে অজানা রোগে মারা গেছে তাদের প্রত্যেকেরই কমপক্ষে একটি থেকে ৬টি গরু। প্রায় একই রকম কথা বলেন, ওই গ্রামের অন্যরাও।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গবাদিপশু বাঁচাতে ক্যাম্পেইন করছেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে জানাচ্ছেন, আপাতত তারা যেন তাদের গবাদিপশুকে গো-চারণ ভূমিতে নতুন গজিয়ে ওঠা ঘাষ না খাওয়ায়। রোগের লক্ষণ দেখামাত্র উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে খবর জানানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, সাসপেক্ট অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতামূলক আলোচনা চলছে। রোগ শনাক্তের জন্য মৃত গরুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
