বন্যায় দেলদুয়ারের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৬, ১৪:২৫
 
বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আটিয়া, দেউলি, এলাসিন, লাউহাটি ও ফাজিলহাটি ইউনিয়নের  প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ধলেশ্বরী নদী সংলগ্ন হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেউলী ইউনিয়ন।
 
দেউলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, এরই মধ্যে দেউলী-ঝুনকাই বেড়িবাঁধে কয়েকটি স্থান ভেঙে গেছে। এছাড়া ছিলিমপুর-ঝুনকাই রাস্তার দুটি স্থানে, মাইঠাইন-চকতৈল রাস্তার মাইঠাইনে, ছিলিমপুর-দেউলী রাস্তার স্থলবর্ষা নামক স্থান ভেঙে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে স্থলবর্ষা স্লুইস গেট। আটিয়া ইউনিয়নের ছিলিমপুর গজিয়াবাড়ি রাস্তার পিরোজপুর নামক স্থান ভেঙে গিয়ে তীব্র স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এলাসিন লাউহাটী বেড়িবাঁধটির গাছকুমুল্লী নামক স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ ও এলাসিন ইউনিয়ন পরিষদ যৌথভাবে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া বাঁধটির অনেক স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে।
 
 
IMG0
 
দক্ষিণ টাঙ্গাইলের বিখ্যাত লাউহাটী গো হাট প্রায় তিনফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছিলিমপুর বাজারের পুরোটাই প্লাবিত হয়েছে। ধলেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙনে দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
 
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, এরই মধ্যে ৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার পর্যন্ত তিনশ হেক্টর লেবু, ৭০ হেক্টর বীজতলা, এক হাজার হেক্টর বোনা আমন, চারশো হেক্টর রোপা আমন, ১২০ হেক্টর সবজি, ১৫ হেক্টর আউশ ও ৪৫ হেক্টর জমির কলা  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 
IMG1
 
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহমেদ বলেন, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন বাঁধ রক্ষার কাজ চলছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
 
দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহাদত হোসেন কবির বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীঘ্রই ত্রাণ তত্পরতা শুরু করা হবে।