ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড দলের খারাপ পারফরমেন্সের জন্য সাবেক কোচ রয় হজসনকে দায়ী করলেন অধিনায়ক ওয়েন রুনি। সর্বশেষ ইউরো আসরের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। এজন্য কোচকেই দায়ী করলেন রুনি।
তিনি বলেন, ‘গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেই আমাদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছেন হজসন। তাই পরের রাউন্ডে ভালো খেলতে না পারায়, টুর্নামেন্টে থেকেই বিদায় নিতে হয় আমাদের।’
ইউরোর সর্বশেষ আসরে গ্রুপ বি’তে খেলে ইংল্যান্ড। রাশিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে টুর্ণামেন্ট শুরু করে তারা। এরপর ওয়েলসকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্ণামেন্টে প্রথম জয়ের স্বাদ নেয় ইংলিশরা। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্লোভাকিয়ার সাথে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ রার্নাস-আপ হয়ে শেষ ষোলোতে উঠে ইংল্যান্ড।
তবে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় ইংল্যান্ডকে। আইসল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তারা। এরপরই কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান হজসন।
তবে দীর্ঘ দিন পর ইউরোর পারফরমেন্স নিয়ে মুখ খুললেন ইংল্যান্ড দলপতি রুনি। তার মতে, ‘ইউরোতে ইংল্যান্ডের খারাপ পারফরমেন্সের জন্য হজসন দায়ী। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ছয়জন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখেছিলো হজসন। দলের অর্ধেক অংশকেই বিশ্রামে রেখেছিলেন তিনি। ঐ ম্যাচে ড্র করে আমরা আমাদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। এছাড়া ঐ ম্যাচটি জিততে পারলে আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে খেলতাম। তাহলে আমাদের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি থাকতো।’
স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রুনি। ম্যাচের শুরু থেকেই খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন কোচের কাছে। কিন্তু রুনির কথা আমলে না নিয়ে নিজের মত পরিকল্পনা করেন হজসন বলে জানালেন রুনি, ‘আমি যখন স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামি, তখন ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়া কঠিন ছিলো। তারপরও আমার চেষ্টা ছিলো। তবে ম্যাচটির শুরু থেকে আমরা সবাই খেলতে পারলে ইতিবাচক ফল নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারতাম। এতে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে আমাদর আত্মবিশ্বাস টগবগে থাকতো।’
হজসন পদত্যাগ করায় ইংল্যান্ড দলের বর্তমান কোচ হয়েছেন স্যাম অ্যালার্ডিচ। তাই ইংল্যান্ডের অধিনায়কের পদে পরিবর্তন আনতে পারেন নতুন কোচ।
রুনি বলেন, ‘২০১৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে খেলবো। এরপর আমি সিদ্বান্ত নেবো আরও কতদিন ইংলিশদের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবো। তবে পরবর্তী দু’বছর অধিনায়ক বা অধিনায়ক হিসেবে নয়, আমি চাইলেই দলের হয়ে খেলবো। তবে এসব নিয়ে কোচের সাথে কথা বলবো। দল নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা সাজাবো। ইংল্যান্ডের কোচের দায়িত্ব পেয়ে বেশ খুশি অ্যালারডিচ। আশা করছি দলের সাফল্য বয়ে আনবেন তিনি।’
