জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি: ফখরুল

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৬, ১৫:৫৮
 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামীকে আর না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন যে বক্তব্য দিয়েছে সেটা তার ব্যক্তিগত অভিমন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
 
বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, এমাজউদ্দীন সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। 
 
তিনি বলেন, জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে ২০ দলীয় জোটে নীতিগত কোনো আলোচনা কিংবা সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। এর অগগ্রতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
 
তিনি বলেন, ড. এমাজউদ্দীন সাহেব বিএনপির একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি দলের কেউ নন।
 
ফখরুল বলেন, বিএনপি জামায়াত ছাড়বে এই ধরনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত নেননি চেয়ারপারসন। তাছাড়াও জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি সব কর্মসূচি করছে না। এটা সরকার ভুলে যাচ্ছে বিএনপি একটি দল। জামায়াত আরো একটি দল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ২০টি দল রয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত একটি। জোটের ২০ দলের আলাদা আলাদা এজেন্ডা রয়েছে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে। তেমনি জামায়াতেরও রয়েছে। জামায়াত তাদের মতো করে কাজ করে ও দল পরিচালনা করে। এই ক্ষেত্রে তারা বিএনপির কাছ থেকে পরামর্শ নেয় না। বিএনপিও পরামর্শ নিতে যায় না। এখন সবাই মনে করে বিএনপি ও জামায়াত এক। এটা মনে করার কোন কারণ নেই। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট কেবল নির্বাচনী জোট। এর বাইরে আর কোন সম্পর্ক নেই। নির্বাচনী জোটের সঙ্গে দলের কর্মকাণ্ড সম্পৃক্ত নয়।
 
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছিলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি রাজনৈতিক দল বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে হয়। কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে ক্ষমতাসীন দল ওই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে। বর্তমানে দেশের বিরোধী দল বিএনপি। তিনি (খালেদা জিয়া) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, ২০ দলের মধ্যে অন্ততপক্ষে এই দলটিকে (জামায়াত) আর ্ভঐবে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, ওই দলটির লায়াবিলিটি (একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার দায়) বহন করতে চান না তিনি। সুতরাং এই দিক থেকে দেখলে প্রতিবন্ধকতা নেই।
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, আবদুল আওয়াল খান প্রমুখ।