অপচিকিত্সা ও ডাক্তারি অবহেলায় মারা গেল জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত বাঁশখালীর মধ্যম সরল গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জিন্নাত আরা ফাতেমা। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে জলাতংক রোগে আক্রান্ত ফাতেমা যন্ত্রণায় বাড়ির উঠানে ছটফট ও চিত্কার করে কান্নাকাটি শুরু করলে গ্রামের কয়েকশ’ উত্সুক জনতা এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায় । দরিদ্র বাবা-মার আকুতি শুনে গ্রামের বাটুনি বৈদ্য ফাতেমার পিঠে ‘কাঁসার থালা’ লাগিয়ে ঝাঁড়-ফুক দিয়ে রোগ নিবারণের চেষ্টা করে। ওই অপচিকিত্সার প্রতিবাদ করে এই প্রতিবেদকসহ স্থানীয় দুই সাংবাদিক ফাতেমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত্যু পথযাত্রী ফাতেমাকে হাসপাতালে ভর্তি করাননি। এই সংক্রামক রোগের কোনো চিকিত্সা নেই বলে তাড়িয়ে দেন। এই রোগী হাসপাতালে থাকলে অন্যরা আক্রান্ত হবে বলে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য করে ফাতেমার মা, বাবা ও বড় ভাইকে।
ফাতেমার বাবা মো. জোবায়ের জানান, গত ২০ রমজান ফাতেমার ডান হাতে পাড়ার একটি কুকুর কামড়িয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গ্রাম্য বৈদ্যের কাছ থেকে ‘কলা পড়া’ খেয়ে চিকিত্সা করায়। অর্থাভাবে কোনো ভ্যাকসিন দিতে পারেনি। গত ৩১ জুলাই স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে পুকুরঘাটে গিয়ে পানি দেখে সে চিত্কার করতে থাকে। ঘরে ফিরেও পানি দেখে চিত্কার শুরু করে। তখন জলাতঙ্ক রোগ হয়েছে ধারণা করে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মুহাঃ সাইফুল্লাহ চৌধুরীর প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে চিকিত্সা করায়। তিনি ফাতেমার বিভিন্ন আচার-আচরণ দেখে জলাতঙ্ক রোগ হয়েছে বলে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একটি ভ্যাকসিন পুশ করে দেন। ওই ভ্যাকসিন দেয়ার পর ফাতেমা আরো অসুস্থ হয়ে গেলে গত ২ আগস্ট চট্টগ্রাম ফৌজদারহাট সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার ডাক্তার ঢাকার মহাখালী সংক্রামক হাসপাতালে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ২ আগস্ট বিকালে বাড়ি ফিরি। টাকার অভাবে ঢাকায় নিতে না পারায় গ্রামের বৈদ্য দিয়ে বিষ তাড়ানোর চেষ্টা করেছি। এরপর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঁশখালী গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারিনি। সংক্রামক ব্যাধি বলে তাড়িয়ে দেয় হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীরা। বাড়ি ফিরে রাত ১২টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ফাতেমা। গতকাল বুধবার দুপুরে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
