ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে চাঁই শিল্পের প্রসার। উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের দোয়ারী পট্রি নামক গ্রামে এ চাঁই শিল্পের কদর থাকলেও বর্তমানে এ শিল্পের সমৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। প্রতিবছর পদ্মায় জোয়ার এলে এ শিল্পের কদর বাড়ে এবং বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শ্রাবন ও ভাদ্র মাস পর্যন্ত চলে বেচা কেনা। তাই মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাঁই তৈরির কারিগরদের চোখে যেন ঘুম নেই। দিন রাত পরিশ্রম করে তারা তৈরি করে যাচ্ছে এ শিল্প সামগ্রী। বাঁশ কেনা, বাঁশ কাটা আর রাত-দিন কাজ করে চাঁই তৈরি করে বিভিন্ন জেলায় রফতানি করাই এ শিল্প কর্মীদের নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় দুই শ পরিবার চাঁই বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
চাই তৈরির কারিগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন বাসিন্দা শেখ কামাল (৪০) ও জানু বেগম (৩৩) জানান, বড় একটি বাঁশ দিয়ে ১০টি বেকি চাঁই তৈরি করা যায়। যা ১৫ শ থেকে দুই হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। আবার একটি বাঁশ দিয়ে ৬০টি চাঁই দোয়ারী তৈরি করা যায় যার বিক্রি দুই হাজার থেকে ২৫ শ টাকা।IMG0
জানা গেছে, নদীতে জোয়ার আসা থেকে শুরু করে প্রায় চার/পাঁচ মাস পর্যন্ত এই দোয়ারীতে প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি, বেলে ও রিটা মাছসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ আটকা পড়ে। এ উপজেলার গাজিটেক ইউনিয়নের চরহাজীগঞ্জ হাটে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার চাঁই বিক্রেতারা ক্রেতার অপেক্ষায় নানা রকমের চাঁই সাজিয়ে বসে থাকেন। এ উপজেলার চাঁই মজবুত ও টেকসই বিধায় ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চেলে এই দোয়ারী বিক্রয় হয়।
এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা নানান অসুবিধার কথা তুলে ধরে বলেন, কয়েক বছর ধরে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী প্লাস্টিকের বড় বড় বোতল দিয়ে চিংড়ি মাছ নিধন করায় চাঁই কেনা বেচা কমে গেছে। তাছাড়া বোতলে আটকা পড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে চিংড়ি মাছের ডিম। প্রশাসনিকভাবে ওই সকল অসাধু ব্যাবসায়ীদের প্রতিরোধ করা না গেলে অচিরেই এ দেশের নদ নদী থেকে চিংড়ি মাছসহ অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।
