চার দিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা উপকূলীয় ১৫টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
উঠান মাড়িয়ে বসতঘরে পানি উঠে পড়ায় উপজেলার উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিন চরআবাবিল ও চরবংশী ইউনিয়নের, চরকাছিয়া, কাটাখালী, জালিয়ার চর, চরলক্ষ্মী, কানিবগার চর, টুনুর চর, চরঘাশিয়ার, মিয়ার হাট, বাবুরচরসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চল এলাকার নদী, সংযুক্ত খাল, বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে আছে। মেঘনা জোয়ারের পানিতে আউশ ধানের মাঠ, আমনের বীজতলা ও রোপা আমনক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও অনেকস্থানে মাছের ঘেরে ও পুকুরের অন্তত অর্ধকোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলেও নিশ্চিত করে স্থানীয় চেয়ারম্যানগণ।
দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু জাফর মিন্টু ফরাজী জানান, কয়েক বছরের মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বেড়িবাঁধ মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই জোয়ারে ওই সব গ্রামে বর্তমানে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
সিআইপির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. শওকত আলী জানান, গত কয়েকদিন থেকে মেঘনা নদীতে পানির চাপ বেশি। স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার এলেই উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। প্রকল্পের ভিতরে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আলম বলেন, গত কয়েকদিন আগে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি চরাঞ্চল প্লাবিত এলাকা পরির্দশন করে সহযোগিতা করা হয়েছে। ফের আরাও পানি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
